জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন
- আপডেট সময় ০৪:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 26
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে সরাসরি আলোচনার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) এক খোলা চিঠির মাধ্যমে পুতিনকে মুখোমুখি আলোচনার এই আহ্বান জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করবে—এমন আশা করা ভুল হবে। ইরানকে ঘিরে উদ্ভূত নতুন আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে ওয়াশিংটনের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় যুদ্ধবিরতির আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন।
তবে জেলেনস্কির এই নতুন উদ্যোগকে ‘অমার্জিত’ বলে অভিহিত করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রুশ প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে, যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আগে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা সম্পন্ন হওয়া উচিত। গত শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, এই মুহূর্তে তিনি এমন কোনো বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না। এটি আসলেই আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা ছিল, নাকি মূল বৈঠক এড়ানোর একটি কৌশল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তার মনে হয় দ্বিতীয় ধারণাটিই সঠিক।
রুশ প্রেসিডেন্টের এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া আবারও কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে। পুতিন মূলত এই যুদ্ধের অবসান চান না উল্লেখ করে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, ক্রেমলিনের এমন উত্তরে বিশ্বের বহু মানুষ চরমভাবে হতাশ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের পূর্বশর্ত হিসেবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বরাবরই কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়া অঞ্চল থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের সব ধরনের প্রচেষ্টা স্থায়ীভাবে বর্জন করতে হবে। অন্যদিকে কিয়েভ প্রশাসন তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের কোনো অংশই রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, মস্কোকে কোনো ধরনের ভূখণ্ডগত ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তারা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে এবং পুনরায় আক্রমণ করতে উৎসাহিত হতে পারে।

























