ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ভারতে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করল রাজ্য সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 59

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে অননুমোদিত বা অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন (এপিআইওয়াইও)-এর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) রাজ্য প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কথিত অবৈধ দখল এবং অনুমোদনহীন ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। এই দাবির পক্ষে এর আগে রাজধানী জুড়ে ২৪ ঘণ্টার বনধ বা ধর্মঘট পালন করেছিল সংগঠনটি এবং তাদের দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ভারতকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না: বিজিবি মহাপরিচালক

গত বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরুণাচল রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই প্রথম বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হয়েছিল। বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত সকল স্থাপনা শনাক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এক সরকারি জরিপের মাধ্যমে ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স এলাকায় ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা আরও জানান, জেলা কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত ১৫টি স্থাপনার মধ্যে ১২টি স্থাপনা সিল বা খালি করার আগে আইনি প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করেছিল। বাকি তিনটি মামলা গত ১ জুন (২০২৬) মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আরেকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে সেই স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সরকারি মুখপাত্রের দাবি, যে উদ্বেগের কারণে আদিবাসী যুব সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে তার সমাধান করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেওয়ার আগে সংগঠনটি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, অরক্ষিত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরন্তর নজরদারি প্রয়োজন।

এর আগে গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর আহ্বান করা একটি উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠককে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বৈঠকে ছাত্র সংগঠন, আদিবাসী সংগঠন, নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আদিবাসী অধিকার, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক উদ্বেগ এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করল রাজ্য সরকার

আপডেট সময় ০৪:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে অননুমোদিত বা অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন (এপিআইওয়াইও)-এর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) রাজ্য প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কথিত অবৈধ দখল এবং অনুমোদনহীন ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। এই দাবির পক্ষে এর আগে রাজধানী জুড়ে ২৪ ঘণ্টার বনধ বা ধর্মঘট পালন করেছিল সংগঠনটি এবং তাদের দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ভারতে মাছ রপ্তানি স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা

গত বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরুণাচল রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই প্রথম বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হয়েছিল। বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত সকল স্থাপনা শনাক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এক সরকারি জরিপের মাধ্যমে ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স এলাকায় ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা আরও জানান, জেলা কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত ১৫টি স্থাপনার মধ্যে ১২টি স্থাপনা সিল বা খালি করার আগে আইনি প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করেছিল। বাকি তিনটি মামলা গত ১ জুন (২০২৬) মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আরেকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে সেই স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সরকারি মুখপাত্রের দাবি, যে উদ্বেগের কারণে আদিবাসী যুব সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে তার সমাধান করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেওয়ার আগে সংগঠনটি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, অরক্ষিত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরন্তর নজরদারি প্রয়োজন।

এর আগে গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর আহ্বান করা একটি উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠককে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বৈঠকে ছাত্র সংগঠন, আদিবাসী সংগঠন, নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আদিবাসী অধিকার, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক উদ্বেগ এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।