মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায়
- আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 69
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার শরীফের দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল দিঘি থেকে কুমিরটিকে ধরার পর খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যায়। মাজার শরিফে আগত দর্শনার্থী, পর্যটক ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন (রোববার) রাতে মাজার শরীফের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে ফাতেমা আক্তার নামে এক ৭ বছর বয়সী শিশু কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। কুমিরটি শিশুটিকে টেনে দিঘির গভীরে নিয়ে যায় এবং পরদিন সোমবার সকালে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১০ এপ্রিল একই দিঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যায়। এসব একের পর এক ঘটনার পর কুমিরটিকে নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দিঘি থেকে এটি সরিয়ে নেওয়ার তীব্র জনদাবি ওঠে।
জনদাবির মুখে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বুধবার সকাল থেকেই দিঘিতে অভিযান শুরু করে বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পালের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল দুপুর ১২টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে দেশব্যাপী আলোচিত এই কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, খুলনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর কুমিরটির নতুন ঠিকানা হতে পারে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্র।
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘির কুমিরকে ঘিরে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাস ও লোককথা। ঐতিহাসিকদের মতে, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) দিঘি খননের পর সুপেয় পানি রক্ষার জন্য ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে এক জোড়া মিঠাপানি প্রজাতির কুমির ছেড়েছিলেন। সেই বংশধারার সর্বশেষ কুমিরটি ২০১৫ সালে মারা যাওয়ার পর, ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্য থেকে সর্বশেষ এই একটি মাত্র কুমিরই দিঘিতে অবশিষ্ট ছিল। এটিকে সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দিঘির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে সাময়িক ছেদ পড়ল।
তবে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানিয়েছেন, এই বিদায় চিরতরে নাও হতে পারে। মাজার শরীফ দিঘির ঘাটগুলোতে দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ফেন্সিং তৈরি না করা পর্যন্ত কুমিরটিকে দূরে রাখা হচ্ছে। দিঘির দুটি প্রধান ঘাটে লোহার বেষ্টনী দিয়ে নিরাপদ বলয় তৈরি করার পর ঐতিহ্যবাহী এই কুমিরটিকে আবারও হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


























