গোয়ায় আজ পর্দা উঠছে নারী সাফের, হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ১২:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 72
ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর অষ্টম আসর। ২০১০ সালে বাংলাদেশের কক্সবাজারে প্রথম আসরের পর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপাল ঘুরে দীর্ঘ তিন আসর পর আবারও ভারতে ফিরল নারী সাফ। এবারের টুর্নামেন্টটি চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ লাল-সবুজের দলটির সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা বা টানা তৃতীয়বার বিশ্বমুকুট ধরে রাখার কঠিন মিশন। তবে পাকিস্তান অংশ না নেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ছয়টি দেশ এবারের আসরে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে।
নারী সাফের ইতিহাসে ভারত এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ গত দুই আসরে টানা চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার ট্রফির হ্যাটট্রিক করতে মরিয়া। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ভাগা দল বলা যায় নেপালকে, যারা আটটি আসরের মধ্যে ছয়বারই ফাইনাল খেলেও একবারও ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়নি। স্বাগতিক ভারত এবার নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে ঘরের মাঠে কঠিন প্রস্তুতি নিয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচ আজ অনুষ্ঠিত হলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আগামীকাল মঙ্গলবার।
বর্তমানে বাংলাদেশ দলের জন্য মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোয়ার তীব্র গরম। কলকাতা ও ঢাকার মতোই গোয়ায় প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বেশ কষ্টদায়ক। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের নারী ফুটবল দল মূল শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলঘেরা একটি রিসোর্টে অবস্থান করছে। রিসোর্টের পরিবেশ অনেকটা বাংলাদেশের গাজীপুরের বনের ভেতরের রিসোর্টগুলোর মতো গাছগাছালিতে ভরা।
শহর থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে উবার বা অনলাইন রাইডিং সেবা নেই এবং জরুরি কোনো কিছু কিনতে হলে প্রায় ২ হাজার রুপি ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই গতকাল গোয়ার সমুদ্র সৈকতের বালুর ওপর বিশেষ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল, যা মূলত ফুটবলারদের স্ট্যামিনা ও ক্ষীপ্রতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এবারের সাফে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নতুন অধিনায়ক মারিয়া। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মারিয়া বলেন, “বিগত দিনগুলোতে আমরা যাদের বিরুদ্ধে খেলেছি, আমরা জানি প্রতিটি দলই অনেক শক্তিশালী। তাই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের ওপর কিছুটা চাপ তো থাকবেই।
তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।” হ্যাটট্রিক শিরোপার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ যেন হিতে বিপরীত না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। ফুটবলে ধাপে ধাপে বা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোনোর কৌশলটি বেশ কার্যকর। আমরা কোনো বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলব এবং প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে সামনে এগিয়ে যাব।”


























