ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বাজারে হাহাকার, বিপাকে হিন্দু খামারিরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 104

ছবি: সংগৃহীত

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন আইনি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশু কেনা বন্ধ রেখেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রেতারা। এর ফলে রাজ্যটির হিন্দু গরু ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ ও শ্রমে বড় করা পশুগুলো বিক্রি করতে না পেরে খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের হাহাকার ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ মে) পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বের হয়ে আসার পর কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

আরও পড়ুন  পদত্যাগে নারাজ মমতা, বিকল্প পথে ৩৫৬ ধারা জারির আশঙ্কা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়টি নিজে দেখছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। তবে পুরো বিষয়টির বিস্তারিত ও সার্বিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করেন এবং অতীতে তারা এই ব্যবসা নিয়ে কখনো কোনো ধরনের সমস্যায় পড়েননি।

তবে সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকার একটি বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারের সেই আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না। এর পাশাপাশি জবাইযোগ্য গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে বলেও আইনি বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত এই নতুন নীতিমালার পর থেকেই কোরবানির পশুর বাজারে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বাজারে হাহাকার, বিপাকে হিন্দু খামারিরা

আপডেট সময় ০১:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন আইনি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশু কেনা বন্ধ রেখেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রেতারা। এর ফলে রাজ্যটির হিন্দু গরু ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ ও শ্রমে বড় করা পশুগুলো বিক্রি করতে না পেরে খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের হাহাকার ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ মে) পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বের হয়ে আসার পর কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

আরও পড়ুন  মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য করিডর প্রস্তাব

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়টি নিজে দেখছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। তবে পুরো বিষয়টির বিস্তারিত ও সার্বিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করেন এবং অতীতে তারা এই ব্যবসা নিয়ে কখনো কোনো ধরনের সমস্যায় পড়েননি।

তবে সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকার একটি বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারের সেই আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না। এর পাশাপাশি জবাইযোগ্য গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে বলেও আইনি বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত এই নতুন নীতিমালার পর থেকেই কোরবানির পশুর বাজারে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।