তেহরানের রাজপথে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান, টিভিতে অস্ত্র প্রদর্শন
- আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 83
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলার হুমকির পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আবারও তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের বিস্তৃত নগরজুড়ে এবং আলবোরজ পর্বতমালার পাদদেশে হাজার হাজার মানুষ রাষ্ট্র-সমর্থিত সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এসব সমাবেশে তীব্র যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবকে কেন্দ্র করে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে। তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারের কাছে প্রতিদিনই ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে এবং ইরানের জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এমন পোস্ট নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকেরা ট্রাম্পের এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। টিয়ানা নামের এক ইরানি তরুণী দাবি করেছেন, দেশ ও জনগণের জন্য তিনি এবং দেশের সামরিক বাহিনীর সব কমান্ডার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। সমাবেশে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তি দাবি করেন, পারমাণবিক বোমা নয়, তাদের পরিচ্ছন্ন শক্তি ও বিদ্যুৎ দরকার; ট্রাম্প তাদের কাছে পারমাণবিক বোমা না থাকার বিষয়টি জেনেও কেবল চাপ সৃষ্টি করছেন।
এদিকে ইরানজুড়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন জল্পনা, গভীর আশঙ্কা ও জনমনে এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে। লন্ডন ও দুবাইয়ে বড় হওয়া ফাতিমা নামের এক নারী দাবি করেন, এই যুদ্ধ যে শেষ হয়নি তা তারা জানেন এবং ট্রাম্প আসলে আলোচনায় বিশ্বাস করেন না। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এসব সমাবেশকে ‘নাইট গ্যাদারিংস’ বলা হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন সার্বজনিক স্থানে ‘গান কিওস্ক’ বা অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালানোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ভানাক স্কয়ারের একটি কিওস্কে কালো চাদর পরা নারীদের একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে, যেখানে মুখোশধারী সেনা পোশাক পরা ব্যক্তিরা অস্ত্র খোলা এবং জোড়া লাগানো শেখাচ্ছেন। এমনকি ছোট শিশুদেরও সেখানে খালি কালাশনিকভ হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা যাচ্ছে।
একই সাথে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা গেছে। কয়েকটি চ্যানেলে উপস্থাপকেরা সরাসরি সম্প্রচারের সময় হাতে রাইফেল ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ‘অফোগ’-এর পুরুষ উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি টেলিভিশন স্টুডিওর ভেতরেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর লাইভ সম্প্রচারে ছাদের দিকে গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চ্যানেল-৩-এর নারী উপস্থাপক মোবিনা নাসিরিও রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে জানান, সাধারণ মানুষের মতো অস্ত্র চালনা শেখার জন্য ভানাক স্কয়ার থেকে তার কাছে একটি অস্ত্র পাঠানো হয়েছে।























