ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে শত বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রতিকৃতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড স্মৃতি মন্ধানার কিংবদন্তি গাজী মাজহারুলের প্রয়াণ দিবস আজ নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২ নাইজেরিয়ায় তেল চুরির ভয়াবহ পরিণতি, নিহত ৪৩ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা, জানাল আবহাওয়া অফিস

পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজেপি সরকারের নতুন আইন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 120

ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের গবাদি পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি এবং নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পক্ষ থেকে দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া এখন থেকে গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, গরু, বলদ, বাছুর এবং মহিষের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অভিন্নভাবে কার্যকর হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, জবাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটিকে প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। তবে গুরুতর অসুস্থতা বা বিকলাঙ্গতার কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়ম পালনের বিষয়টি তদারকি করতে পৌর চেয়ারম্যান বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন করার ক্ষমতা রাখবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

আরও পড়ুন  আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রধান উপদেষ্টার সভা

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধকে আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তটি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আরোহন করে। ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং সরকারের এই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজেপি সরকারের নতুন আইন

আপডেট সময় ০২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের গবাদি পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি এবং নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পক্ষ থেকে দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া এখন থেকে গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, গরু, বলদ, বাছুর এবং মহিষের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অভিন্নভাবে কার্যকর হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, জবাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটিকে প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। তবে গুরুতর অসুস্থতা বা বিকলাঙ্গতার কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়ম পালনের বিষয়টি তদারকি করতে পৌর চেয়ারম্যান বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন করার ক্ষমতা রাখবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

আরও পড়ুন  ইতিহাসে প্রথম, রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হাইকোর্টের রায়ে: প্রধান বিচারপতি

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধকে আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তটি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আরোহন করে। ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং সরকারের এই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।