ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমঝোতা চুক্তি সই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / 109

ছবি:সংগৃহীত

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং এর অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা। চুক্তির শর্তানুসারে, এখন থেকে দুই দেশ মাদক পাচারকারী চক্র, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং পাচারের নতুন রুট ও পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কার্যকাল: চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
যৌথ অভিযান: মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রয়োজনবোধে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে।
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি: মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময় এবং মাদক শনাক্তকরণের প্রযুক্তি ও ‘স্নিফার ডগ’ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হবে।
ফোকাল পয়েন্ট: তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’ এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘এএনএফ’ মূল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
গোপনীয়তা: আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

আরও পড়ুন  শিরোনাম: ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে সম্মানভিত্তিক চুক্তির আহ্বান ইইউ’র

উভয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই সহযোগিতার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মাদক চোরাচালান দমনে এই চুক্তি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমঝোতা চুক্তি সই

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং এর অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা। চুক্তির শর্তানুসারে, এখন থেকে দুই দেশ মাদক পাচারকারী চক্র, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং পাচারের নতুন রুট ও পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কার্যকাল: চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
যৌথ অভিযান: মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রয়োজনবোধে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে।
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি: মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময় এবং মাদক শনাক্তকরণের প্রযুক্তি ও ‘স্নিফার ডগ’ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হবে।
ফোকাল পয়েন্ট: তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’ এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘এএনএফ’ মূল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
গোপনীয়তা: আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

আরও পড়ুন  আগস্টে শুল্ক কার্যকর, চুক্তি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের

উভয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই সহযোগিতার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মাদক চোরাচালান দমনে এই চুক্তি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।