শহীদ নাইমার ঘরে ডা. মাহমুদা মিতু: ‘শপথের দায় এখন আরও ভারী মনে হচ্ছে’
- আপডেট সময় ১২:১৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 98
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নাইমার বাসভবনে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
সোমবার (৪ মে) নাইমার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এই শহীদ পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথের দায়বদ্ধতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ডা. মিতু তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শহীদ নাইমার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডা. মিতু উল্লেখ করেন, নাইমা তার মেয়ের কাছাকাছি বয়সী ছিল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিতে তার মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত ত্রুটির ফল হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো ব্যবহার করেই এক সময় নিরস্ত্র শিশুদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ তৈরির সেই পুরনো প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দেশ সংস্কারের নামে রাষ্ট্র এখনো সেই পুরনো সংবিধানের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে শহীদ নাইমার মা নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান। তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দেশের প্রকৃত কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। নাইমার মায়ের দাবি, যদি রাষ্ট্র সংস্কার না হয় এবং দেশ আবার পুরনো সিস্টেমে ফিরে যায়, তবে তার বাকি সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ডা. মিতু জানান, কেবল আবেগ বা মমতা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না; রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে সংবিধান প্রয়োজন, তা যেন সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে—এমন সংস্কারই এখন সময়ের দাবি। ডা. মাহমুদা মিতু তার লেখায় দেশের সকল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, বছরে অন্তত একবার করে হলেও শহীদ মায়েদের কাছে গিয়ে তাদের দুঃখগাথা শোনা উচিত।
এতে জনপ্রতিনিধিরা ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এবং কেন সংসদে বসেছেন, তাদের প্রধান দায়িত্ব কী—সেটি অনুধাবন করতে পারবেন। জুলাইয়ের সেই অমানবিক দৃশ্যগুলো স্মরণ করে তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের প্রতিশ্রুতি দেন।

























