ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেলিগ্রামের অন্ধকার জগতে র‍্যাবের হানা; দেড় লাখ নগ্ন ছবি ও ভিডিওসহ গ্রেপ্তার ৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 37

ছবি সংগৃহীত

 

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮। বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে র‍্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মেরাজুর রহমান আরমান (২১), বিল্লাল হোসেন ওরফে অন্তর (২১), রবি আলম মমিন (২১), আল আমিন ইসলাম ওরফে মাহি (১৯) এবং মো. হাসিব (২৩)। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১২টি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাছের ডালে চাপা পড়ে র‍্যাব সদস্য নিহত গাইবান্ধায়

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে প্রায় দেড় লাখ নগ্ন ও স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও’র সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রটি প্রায় ৩৫০টি প্রাইভেট গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এসব পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের লক্ষ্য করে সাইবার অপরাধ পরিচালনা করত। তারা মূলত তিনভাবে ছবি সংগ্রহ করত:

১.  ভিকটিমের ফেসবুক বা ব্যক্তিগত ডিভাইস হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।
২.  ব্রেকআপের পর প্রতিশোধ নিতে প্রাক্তন প্রেমিকদের কাছ থেকে ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে।
৩.  ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে গোপনে ধারণকৃত ভিডিও এক্সপোজ করার হুমকি দিয়ে।
পরবর্তীতে এসব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিম ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত এই চক্র।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার ও সাইবার ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর র‍্যাব ফোর্সেস গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি আভিযানিক দল বরিশাল ও ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আইনের আওতায় আনে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টেলিগ্রামের অন্ধকার জগতে র‍্যাবের হানা; দেড় লাখ নগ্ন ছবি ও ভিডিওসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮। বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে র‍্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মেরাজুর রহমান আরমান (২১), বিল্লাল হোসেন ওরফে অন্তর (২১), রবি আলম মমিন (২১), আল আমিন ইসলাম ওরফে মাহি (১৯) এবং মো. হাসিব (২৩)। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১২টি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদযাত্রায় তিনস্তরের নিরাপত্তা, মাঠে র‍্যাবের বিশেষ টিম

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে প্রায় দেড় লাখ নগ্ন ও স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও’র সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রটি প্রায় ৩৫০টি প্রাইভেট গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এসব পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের লক্ষ্য করে সাইবার অপরাধ পরিচালনা করত। তারা মূলত তিনভাবে ছবি সংগ্রহ করত:

১.  ভিকটিমের ফেসবুক বা ব্যক্তিগত ডিভাইস হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।
২.  ব্রেকআপের পর প্রতিশোধ নিতে প্রাক্তন প্রেমিকদের কাছ থেকে ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে।
৩.  ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে গোপনে ধারণকৃত ভিডিও এক্সপোজ করার হুমকি দিয়ে।
পরবর্তীতে এসব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিম ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত এই চক্র।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে টেলিগ্রাম অ্যাপের অপব্যবহার ও সাইবার ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর র‍্যাব ফোর্সেস গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি আভিযানিক দল বরিশাল ও ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আইনের আওতায় আনে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।