ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের
- আপডেট সময় ০৯:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 40
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে সাড়া দিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরান সরকার বর্তমানে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা প্রত্যাশিতই ছিল। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আমাদের কাছে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং ইরানি প্রতিনিধিদের একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ পেশ করার সুযোগ দিতে আমি এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিবৃতিতে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, “আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং তাদের সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।” এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না, তবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ও তেহরানের নমনীয় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন তার অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আনল।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন অবস্থানে একটি কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে ওয়াশিংটন কেবল তাদের দেওয়া কঠোর শর্তসমূহ (যেমন—পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ইউরেনিয়াম ফেরত দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা) মানার ওপর জোর দিচ্ছিল। তবে বর্তমানে পাকিস্তান ও ট্রাম্পের বিশেষ দলের (জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনার) তৎপরতায় একটি ‘সমন্বিত শান্তি চুক্তি’ বা ‘পিস ডিল’-এর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কঠোর নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন সময়েও ইরানি উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বহির্গমন করতে পারবে না। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে তারাও ‘নতুন কৌশল’ অবলম্বন করবে। তবুও এই মেয়াদ বৃদ্ধিকে বিশ্ববাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


























