ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত তিন মরদেহ উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 126

ছবি সংগৃহীত

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং মাথায় গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  টেকনাফ সীমান্তের আলোচিত মানবপাচারকারী আবদুল আলী গ্রেপ্তার

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিহতদের বিরুদ্ধে অতীতে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন দাবি করেছেন, গত রাতে মুজিবুর রহমান তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সকালেই পাহাড়ের ঢালে ছেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কাঠুরিয়া জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই পাহাড়ি এলাকায় লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাঝেমধ্যে সেখান থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। এলাকাবাসীর ধারণা, জিম্মি করা ব্যক্তিদের বণ্টন বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র চক্রগুলোর নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে এই নিহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ডে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আজকের এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত তিন মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং মাথায় গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-রাশিয়া সামরিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিহতদের বিরুদ্ধে অতীতে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন দাবি করেছেন, গত রাতে মুজিবুর রহমান তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সকালেই পাহাড়ের ঢালে ছেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কাঠুরিয়া জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই পাহাড়ি এলাকায় লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাঝেমধ্যে সেখান থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। এলাকাবাসীর ধারণা, জিম্মি করা ব্যক্তিদের বণ্টন বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র চক্রগুলোর নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে এই নিহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ডে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আজকের এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।