খুলছে হরমুজ প্রণালি, জাহাজ প্রতি ২০ লাখ ডলার টোল দাবি ইরানের
- আপডেট সময় ১০:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 39
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানের পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সফল মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। সিএনএন ও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তাসনিম নিউজের তথ্যানুযায়ী, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। সংগৃহীত এই অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে; যেখানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, পারাপারের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে ইরান ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি দাবি করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে কেবল পাকিস্তান ও ভারতের মতো দেশগুলো বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে তাদের পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও এর আওতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বুধবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে, তবে শর্ত হলো— ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলের এই অবস্থান পাকিস্তানের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দাবি করেছিলেন যে চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনও নীরব রয়েছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সমঝোতাকে নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক বিজয় হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশাল সাফল্য।
তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের নির্দেশিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মাত্র ৩৮ দিনেই এর মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছে। লেভিটের মতে, এই সামরিক সাফল্যই যুক্তরাষ্ট্রকে দরকষাকষির টেবিলে শক্তিশালী অবস্থানে (লেভারেজ) নিয়ে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করছে। ট্রাম্পের উদ্যোগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।
সূত্র : সিএনএন
























