ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে ৩টি এসি বাসে রহস্যময় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 176

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা ‘রয়েল সার্ভিস’ পরিবহনের তিনটি এসি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ করেই বাসগুলো থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও বাসগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রোববার দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। প্রথমে ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তীতে কুমিল্লা নগরী থেকে আরও একটি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে আগুন আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  কোম্পানীগঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাস শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, রয়েল সার্ভিসের এই তিনটি এসি বাস গত প্রায় দুই বছর ধরে জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। চালক ও সহকারীদের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। তাদের ধারণা, বাসের ভেতরে মাদক সেবনের সময় অসতর্কতাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তিনটি বাসের মধ্যে একটিতে রয়েল পরিবহনের স্টিকার থাকলেও বাকি দুটিও একই সংস্থার বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “পরিত্যক্ত এসব বাসে কোনো মেরামতের কাজ চলছিল না, তাই শর্ট সার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটির সুযোগ কম। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।”

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর তথ্য সংগ্রহের জন্য রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নাশকতা নাকি কোনো দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল এবং সেখানে বহিরাগতদের যাতায়াত ছিল, তাই প্রতিটি দিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে ৩টি এসি বাসে রহস্যময় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

আপডেট সময় ০৩:৪৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা ‘রয়েল সার্ভিস’ পরিবহনের তিনটি এসি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ করেই বাসগুলো থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও বাসগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রোববার দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। প্রথমে ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তীতে কুমিল্লা নগরী থেকে আরও একটি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে আগুন আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত ৫

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাস শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, রয়েল সার্ভিসের এই তিনটি এসি বাস গত প্রায় দুই বছর ধরে জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। চালক ও সহকারীদের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। তাদের ধারণা, বাসের ভেতরে মাদক সেবনের সময় অসতর্কতাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তিনটি বাসের মধ্যে একটিতে রয়েল পরিবহনের স্টিকার থাকলেও বাকি দুটিও একই সংস্থার বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “পরিত্যক্ত এসব বাসে কোনো মেরামতের কাজ চলছিল না, তাই শর্ট সার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটির সুযোগ কম। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।”

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর তথ্য সংগ্রহের জন্য রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নাশকতা নাকি কোনো দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল এবং সেখানে বহিরাগতদের যাতায়াত ছিল, তাই প্রতিটি দিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।