ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কূটনীতির আড়ালে ইরানের স্থল হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র:ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 139

ছবি: সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে প্রকাশ্য আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে ইরানে স্থল হামলার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।

স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “শত্রু পক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের আহ্বান জানালেও পর্দার আড়ালে তারা স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।” তার দাবি অনুযায়ী, কূটনৈতিক তৎপরতার এই আবরণ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের একটি কৌশল মাত্র। ইরানের পক্ষ থেকে এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ২৫ বছর পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে সিরিয়ার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেন্টাগন ইরানে স্থল অভিযানের প্রাথমিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও স্থলবাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি, তবে সামরিক পরিকল্পনাগুলো সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই স্থল অভিযানটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিবর্তে বিশেষায়িত আক্রমণের ধাঁচে হতে পারে। এতে ‘স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস’ এবং প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর একটি সমন্বিত ইউনিট ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চার হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসরমান যুদ্ধজাহাজগুলোতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদেরও উচ্চ সতর্কতায় (অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আরও অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে বলে এজাহারে বা সংশ্লিষ্ট তথ্যে উঠে এসেছে। এই সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি অঞ্চলটিতে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিল এবং রণক্ষেত্র—উভয় দিকেই এখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কূটনীতির আড়ালে ইরানের স্থল হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র:ইরান

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে প্রকাশ্য আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে ইরানে স্থল হামলার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।

স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “শত্রু পক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের আহ্বান জানালেও পর্দার আড়ালে তারা স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।” তার দাবি অনুযায়ী, কূটনৈতিক তৎপরতার এই আবরণ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের একটি কৌশল মাত্র। ইরানের পক্ষ থেকে এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তে অনড় হামাস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে চায় সংশোধন

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেন্টাগন ইরানে স্থল অভিযানের প্রাথমিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও স্থলবাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি, তবে সামরিক পরিকল্পনাগুলো সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই স্থল অভিযানটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিবর্তে বিশেষায়িত আক্রমণের ধাঁচে হতে পারে। এতে ‘স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস’ এবং প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর একটি সমন্বিত ইউনিট ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চার হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসরমান যুদ্ধজাহাজগুলোতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদেরও উচ্চ সতর্কতায় (অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আরও অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে বলে এজাহারে বা সংশ্লিষ্ট তথ্যে উঠে এসেছে। এই সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি অঞ্চলটিতে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিল এবং রণক্ষেত্র—উভয় দিকেই এখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।