ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গত ৮ বছর দেশে হামের টিকাই দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 152

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, গত আট বছর ধরে দেশে অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগের কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি। রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি পর্যায়ে হামের (মিজেলস) ভ্যাকসিন না দেওয়ায় বর্তমানে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, “ভ্যাকসিন ক্রয়ের বিষয়টি পারচেজ কমিটিতে পাস হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে টিকা সংগ্রহ করে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব।”

আরও পড়ুন  আদ্-দ্বীনের অন্য শাখা চালু রাখতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এ বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। এরপর রাজধানীর বস্তি এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি, যাদের একটি বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু।

হামের রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আইসোলেশন সেন্টার, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শিশু হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালেও বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, সরকার বেসরকারি পর্যায় থেকে পাঁচটি ভেন্টিলেটর অনুদান পেয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভেন্টিলেটর আগামীকাল সোমবার সচিব নিজে রাজশাহীতে নিয়ে যাবেন। এছাড়া ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ১২টি ভেন্টিলেটর দ্রুত সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

সাধারণত সরকারি রুটিন অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইন চলাকালে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে যাওয়া এই বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গত ৮ বছর দেশে হামের টিকাই দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৩১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

দেশে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, গত আট বছর ধরে দেশে অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগের কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি। রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি পর্যায়ে হামের (মিজেলস) ভ্যাকসিন না দেওয়ায় বর্তমানে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, “ভ্যাকসিন ক্রয়ের বিষয়টি পারচেজ কমিটিতে পাস হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে টিকা সংগ্রহ করে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব।”

আরও পড়ুন  মেডিকেল টেন্ডার দুর্নীতিতে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এ বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। এরপর রাজধানীর বস্তি এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি, যাদের একটি বড় অংশই হামে আক্রান্ত শিশু।

হামের রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আইসোলেশন সেন্টার, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শিশু হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালেও বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, সরকার বেসরকারি পর্যায় থেকে পাঁচটি ভেন্টিলেটর অনুদান পেয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভেন্টিলেটর আগামীকাল সোমবার সচিব নিজে রাজশাহীতে নিয়ে যাবেন। এছাড়া ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ১২টি ভেন্টিলেটর দ্রুত সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

সাধারণত সরকারি রুটিন অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইন চলাকালে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে যাওয়া এই বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।