ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইরান যুদ্ধ: তেল নয়, পানি হতে পারে প্রধান অস্ত্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 142

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে তেলের পাশাপাশি পানিও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে তেলকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—মিষ্টি পানি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’, তেল পরিবহনে কঠোর বার্তা তেহরানের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। তাই অনেক দেশ সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে পানযোগ্য করার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস–এর তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত–এর প্রায় ৯০ শতাংশ পানি আসে লবণমুক্ত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ওমান–এ ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরব–এ ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ প্রায় ৪২ শতাংশ মিষ্টি পানি এভাবেই উৎপাদিত হয়।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার সায়েন্স–এর গবেষক উইল লা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের লবণমুক্তকরণ কারখানাগুলো ২০২১ সালে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করেছিল, যা দিয়ে অলিম্পিক মানের প্রায় আট হাজার সুইমিং পুল পূর্ণ করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলো এখন কৌশলগত অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি–এর অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো দেখে যে তাদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা হচ্ছে, তাহলে তারা যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে বাহারাইন অভিযোগ করেছে, তাদের একটি লবণমুক্তকরণ কারখানায় হামলা হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব।

অন্যদিকে জেবেল আলি বন্দর ও ফুজাইরাহ–এর মতো এলাকাতেও পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর কাছাকাছি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি–এর পানি ও পরিবেশবিষয়ক ইনস্টিটিউটের প্রধান কাভেহ মাদানি বলেন, ইতিহাসে বহুবার পানিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পানির ঘাটতি আগে থেকেই একটি বড় সমস্যা। কম বৃষ্টিপাত, পুরোনো অবকাঠামো ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংঘাত এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সংঘাত শুধু তেল বা গ্যাসকেন্দ্রিক থাকবে না; নদী, ভূগর্ভস্থ পানির উৎস এবং লবণমুক্তকরণ কারখানাগুলোকেও ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধ: তেল নয়, পানি হতে পারে প্রধান অস্ত্র

আপডেট সময় ০৬:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

 

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে তেলের পাশাপাশি পানিও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে তেলকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—মিষ্টি পানি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন  ইরানি হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। তাই অনেক দেশ সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে পানযোগ্য করার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস–এর তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত–এর প্রায় ৯০ শতাংশ পানি আসে লবণমুক্ত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ওমান–এ ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরব–এ ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ প্রায় ৪২ শতাংশ মিষ্টি পানি এভাবেই উৎপাদিত হয়।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার সায়েন্স–এর গবেষক উইল লা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের লবণমুক্তকরণ কারখানাগুলো ২০২১ সালে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করেছিল, যা দিয়ে অলিম্পিক মানের প্রায় আট হাজার সুইমিং পুল পূর্ণ করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলো এখন কৌশলগত অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি–এর অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো দেখে যে তাদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা হচ্ছে, তাহলে তারা যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে বাহারাইন অভিযোগ করেছে, তাদের একটি লবণমুক্তকরণ কারখানায় হামলা হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব।

অন্যদিকে জেবেল আলি বন্দর ও ফুজাইরাহ–এর মতো এলাকাতেও পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর কাছাকাছি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি–এর পানি ও পরিবেশবিষয়ক ইনস্টিটিউটের প্রধান কাভেহ মাদানি বলেন, ইতিহাসে বহুবার পানিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পানির ঘাটতি আগে থেকেই একটি বড় সমস্যা। কম বৃষ্টিপাত, পুরোনো অবকাঠামো ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংঘাত এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সংঘাত শুধু তেল বা গ্যাসকেন্দ্রিক থাকবে না; নদী, ভূগর্ভস্থ পানির উৎস এবং লবণমুক্তকরণ কারখানাগুলোকেও ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।