ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক

একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনায় ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 116

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিজয় ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে গভীর আলোচনা চলছে।
এমতাবস্থায়, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য ঘোষণার বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এই সংঘাত বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও দলীয় কর্মকর্তারা। দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনা গেলে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের “গোল্ডেন ডোম” ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পে শীর্ষে স্পেসএক্স

গোয়েন্দা সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা বিজয় ঘোষণা করে এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে, তবে ইরানের নেতারা সেটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রচার করতে পারেন। অন্যদিকে, সেনা উপস্থিতি বজায় রেখে বিজয় ঘোষণা করা হলে তেহরান একে স্রেফ আলোচনার কৌশল হিসেবে দেখতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে এমন কোনো ‘বাজে চুক্তিতে’ তাড়াহুড়ো করে প্রবেশ করবে না।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে ইরানের মাইন ও ড্রোন হামলার হুমকিতে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা প্রেসিডেন্টের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে অবরোধ শিথিল করলে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের মতো বড় সামরিক বিকল্পগুলো এখন কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কম সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে। তবে বিমান হামলার মতো বিকল্পগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন পুনরুদ্ধার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর জন্য কৌশলগত খরচ ও ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনায় ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিজয় ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে গভীর আলোচনা চলছে।
এমতাবস্থায়, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য ঘোষণার বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এই সংঘাত বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও দলীয় কর্মকর্তারা। দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনা গেলে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত বাংলাদেশি পণ্যে কোন শুল্ক থাকবে না: ট্রাম্প

গোয়েন্দা সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা বিজয় ঘোষণা করে এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে, তবে ইরানের নেতারা সেটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রচার করতে পারেন। অন্যদিকে, সেনা উপস্থিতি বজায় রেখে বিজয় ঘোষণা করা হলে তেহরান একে স্রেফ আলোচনার কৌশল হিসেবে দেখতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে এমন কোনো ‘বাজে চুক্তিতে’ তাড়াহুড়ো করে প্রবেশ করবে না।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে ইরানের মাইন ও ড্রোন হামলার হুমকিতে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা প্রেসিডেন্টের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে অবরোধ শিথিল করলে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের মতো বড় সামরিক বিকল্পগুলো এখন কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কম সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে। তবে বিমান হামলার মতো বিকল্পগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন পুনরুদ্ধার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর জন্য কৌশলগত খরচ ও ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।