ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’, তেল পরিবহনে কঠোর বার্তা তেহরানের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / 80

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা Islamic Revolutionary Guard Corps। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসির এক কমান্ডার ঘোষণা দেন যে প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো জাহাজ এই পথে চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসন, ২০ মাসে ৩৫ হাজার হামলা : রিপোর্ট

সোমবার আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, “প্রণালি বন্ধ। যদি কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর সদস্যরা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।”

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে জাবারি আরও দাবি করেন, তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হবে এবং এক ফোঁটা তেলও অঞ্চল ছাড়তে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আগামী দিনে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের কাছে এক ফোঁটা তেলও পৌঁছাবে না।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরর সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই পথ দিয়েই চলাচল করে। পরিবহন করা তেলের বড় অংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানিরও উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথনির্ভর।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও কয়েক মিনিট পরপর জাহাজ চলাচল করতে দেখা যায়।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এবং দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’, তেল পরিবহনে কঠোর বার্তা তেহরানের

আপডেট সময় ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

 

বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা Islamic Revolutionary Guard Corps। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসির এক কমান্ডার ঘোষণা দেন যে প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো জাহাজ এই পথে চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন  এটাই সেরা সুযোগ, সরকারের দখল নিন: ইরানিদের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

সোমবার আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, “প্রণালি বন্ধ। যদি কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর সদস্যরা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।”

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে জাবারি আরও দাবি করেন, তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হবে এবং এক ফোঁটা তেলও অঞ্চল ছাড়তে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আগামী দিনে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের কাছে এক ফোঁটা তেলও পৌঁছাবে না।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরর সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই পথ দিয়েই চলাচল করে। পরিবহন করা তেলের বড় অংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানিরও উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথনির্ভর।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও কয়েক মিনিট পরপর জাহাজ চলাচল করতে দেখা যায়।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এবং দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।