ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বছর শুরুর মাসেই ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 181

ছবি সংগৃহীত

 

 

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু।

আরও পড়ুন  হজ ব্যবস্থাপনায় আরও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ: ধর্ম উপদেষ্টা

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

এ সময়ে ৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোরে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিকেলে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

পেশাগত পরিচয় ও কারণ

নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিক্রয় প্রতিনিধি, পোশাক ও নির্মাণ শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বছর শুরুর মাসেই ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭

আপডেট সময় ০৬:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু।

আরও পড়ুন  চিতলমারীতে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, যুবক নিহত, ১২ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

এ সময়ে ৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোরে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিকেলে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

পেশাগত পরিচয় ও কারণ

নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিক্রয় প্রতিনিধি, পোশাক ও নির্মাণ শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।