ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 692

ছবি সংগৃহীত

 

উজানের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ধাপে ধাপে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। সকাল ৬টায় পানি ছিল ৫২.১৩ সেন্টিমিটার, যা ৯টায় পৌঁছে যায় ৫২.১৫ সেন্টিমিটারে—এটাই বিপদসীমা। এরপর দুপুর ১২টার দিকে পানি দাঁড়ায় ৫২.২০ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে।

আরও পড়ুন  তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে উত্তাল উত্তরাঞ্চল

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, “উজানে পানির প্রবাহ বাড়ায় দ্রুতই তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে।” পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ রয়েছে সতর্কাবস্থায়।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরগ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, “অন্তত ১০টি চরগ্রামের মানুষ বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন। খগাখাড়িবাড়ির বাইশপুকুর গ্রাম ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।”

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, “সবচেয়ে বড় চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ফসলের জমি, ধানের বীজতলা ডুবে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।”

অপরদিকে, ব্যারাজের ভাটি অঞ্চলে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টিত চর ও নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। হাঁটুসমান পানি প্রবেশ করেছে বাড়িঘরে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, “উজানের ভারী বর্ষণ ও বৃষ্টির কারণে পানি বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে আরও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।”

ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।”

নীলফামারী জেলা প্রশাসন নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের দিক নির্দেশনাগুলি অনুসরণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট সময় ০৬:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

 

উজানের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ধাপে ধাপে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। সকাল ৬টায় পানি ছিল ৫২.১৩ সেন্টিমিটার, যা ৯টায় পৌঁছে যায় ৫২.১৫ সেন্টিমিটারে—এটাই বিপদসীমা। এরপর দুপুর ১২টার দিকে পানি দাঁড়ায় ৫২.২০ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-চীনের নদী ব্যবস্থাপনায় সমঝোতা স্মারক নবায়ন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা চলমান

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, “উজানে পানির প্রবাহ বাড়ায় দ্রুতই তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে।” পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ রয়েছে সতর্কাবস্থায়।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরগ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, “অন্তত ১০টি চরগ্রামের মানুষ বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন। খগাখাড়িবাড়ির বাইশপুকুর গ্রাম ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।”

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, “সবচেয়ে বড় চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ফসলের জমি, ধানের বীজতলা ডুবে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।”

অপরদিকে, ব্যারাজের ভাটি অঞ্চলে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টিত চর ও নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। হাঁটুসমান পানি প্রবেশ করেছে বাড়িঘরে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, “উজানের ভারী বর্ষণ ও বৃষ্টির কারণে পানি বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে আরও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।”

ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।”

নীলফামারী জেলা প্রশাসন নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের দিক নির্দেশনাগুলি অনুসরণ করেন।