ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত আরও ৯৫, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫৮ হাজার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 568

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ থেমে নেই। রোববার একটি ব্যস্ত বাজার এবং একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রে চালানো প্রাণঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২৬ জনে পৌঁছেছে।

গাজা সিটির একটি জনবহুল বাজারে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. আহমেদ কান্দিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বাজারটি হামলার সময় ভিড়ে ঠাসা ছিল।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে ভয়াবহ বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত বেড়ে ১১১, নিখোঁজ বহু পর্যটক

এছাড়া মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রের সামনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। তারা সবাই পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাজারে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তারা দাবি করেছে, নুসাইরাত এলাকায় তারা এক ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তবে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি তাদের। এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই হামলাগুলো ঘটছে এমন এক সময়, যখন গাজায় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে পানি বিশুদ্ধকরণ এবং পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে বাধ্য হয়ে সীমিতসংখ্যক পানি কেন্দ্রের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এ কেন্দ্রগুলোতেই প্রতিনিয়ত হামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ জন। অবরোধ আর লাগাতার হামলায় গাজার প্রায় ২১ লাখ বাসিন্দা এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ সংকট নিরসনে চাপ বাড়লেও এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত আরও ৯৫, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫৮ হাজার

আপডেট সময় ১০:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

 

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ থেমে নেই। রোববার একটি ব্যস্ত বাজার এবং একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রে চালানো প্রাণঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২৬ জনে পৌঁছেছে।

গাজা সিটির একটি জনবহুল বাজারে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. আহমেদ কান্দিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বাজারটি হামলার সময় ভিড়ে ঠাসা ছিল।

আরও পড়ুন  লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নিহত বেড়ে ২৫৪

এছাড়া মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রের সামনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। তারা সবাই পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাজারে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তারা দাবি করেছে, নুসাইরাত এলাকায় তারা এক ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তবে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি তাদের। এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই হামলাগুলো ঘটছে এমন এক সময়, যখন গাজায় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে পানি বিশুদ্ধকরণ এবং পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে বাধ্য হয়ে সীমিতসংখ্যক পানি কেন্দ্রের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এ কেন্দ্রগুলোতেই প্রতিনিয়ত হামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ জন। অবরোধ আর লাগাতার হামলায় গাজার প্রায় ২১ লাখ বাসিন্দা এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ সংকট নিরসনে চাপ বাড়লেও এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।