ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করল ইরান হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রোয়েশিয়া সমুদ্র, ইতিহাস আর ইউরোপীয় সৌন্দর্যের দেশ আধুনিক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ রোডম্যাপ দায়বদ্ধতাহীন ভালোবাসার নতুন নাম ‘ন্যানোশিপ’, বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন সতর্কবার্তা ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম নেত্রকোনায় জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত অন্তত ৩০ ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ নিয়ে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় সরকার; সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের মিলবে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও পোশাক যে ৭ পাম্পে ২৫% অতিরিক্ত অকটেন দিচ্ছে বিপিসি

মেক্সিকোর একটি শ্মশান থেকে স্তূপীকৃত ৩৮১ মরদেহ উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 227

ছবি: সংগৃহীত

 

উত্তর মেক্সিকোর সিউদাদ জুয়ারেজের একটি বেসরকারি শ্মশান থেকে স্তূপীকৃত অবস্থায় ৩৮১টি মরদেহের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রোববার (২৯ জুন) চিহুয়াহুয়া রাজ্য প্রসিকিউটরের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের যোগাযোগ সমন্বয়কারী এলয় গার্সিয়া আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ৩৮১টি মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।” তিনি বলেন, মৃতদেহগুলো অনিয়মিতভাবে শ্মশানে জমা করা হয়েছিল এবং কোনো প্রকার দাহ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  কংগ্রেসে ট্রাম্পের ভাষণ: দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবার, চীন-মেক্সিকো-গাজা প্রসঙ্গ আসছে?

গার্সিয়া আরও জানান, শ্মশানের বিভিন্ন কক্ষে মরদেহগুলো একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। দুর্গন্ধ না ছড়ানোর জন্য এসব মরদেহে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি ধারণা করা হচ্ছে, দাহ না করেই মৃতদের আত্মীয়স্বজনকে ছাইয়ের বদলে অন্য কিছু বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, কিছু মরদেহ দুই বছর পর্যন্ত শ্মশানে এভাবেই পড়ে থাকতে পারে। গার্সিয়া এ ঘটনায় শ্মশান পরিচালনাকারীদের অবহেলা এবং চরম দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “যতটুকু মরদেহ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আছে, তার বেশি নিলে এমন বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য।”

এ ঘটনায় শ্মশানের একজন প্রশাসক ইতোমধ্যে নিজেকে প্রসিকিউটরদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তবে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে কোনোটি অপরাধমূলক সহিংসতার শিকার কিনা, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতার কারণে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই ফরেনসিক ব্যবস্থার সংকটে ভুগছে। দেশটির মর্গ এবং শ্মশানগুলোতে স্থান সংকুলান, দক্ষ জনবলের অভাব এবং অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে এমন ভয়াবহ চিত্র প্রায়ই সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা দেশটির নাজুক ফরেনসিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

স্থানীয়রা এমন ঘটনায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন, প্রিয়জনের মরদেহকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে এভাবে ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক।

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরের দপ্তর, যাতে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেক্সিকোর একটি শ্মশান থেকে স্তূপীকৃত ৩৮১ মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

 

উত্তর মেক্সিকোর সিউদাদ জুয়ারেজের একটি বেসরকারি শ্মশান থেকে স্তূপীকৃত অবস্থায় ৩৮১টি মরদেহের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রোববার (২৯ জুন) চিহুয়াহুয়া রাজ্য প্রসিকিউটরের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের যোগাযোগ সমন্বয়কারী এলয় গার্সিয়া আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ৩৮১টি মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।” তিনি বলেন, মৃতদেহগুলো অনিয়মিতভাবে শ্মশানে জমা করা হয়েছিল এবং কোনো প্রকার দাহ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  কংগ্রেসে ট্রাম্পের ভাষণ: দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবার, চীন-মেক্সিকো-গাজা প্রসঙ্গ আসছে?

গার্সিয়া আরও জানান, শ্মশানের বিভিন্ন কক্ষে মরদেহগুলো একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। দুর্গন্ধ না ছড়ানোর জন্য এসব মরদেহে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি ধারণা করা হচ্ছে, দাহ না করেই মৃতদের আত্মীয়স্বজনকে ছাইয়ের বদলে অন্য কিছু বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, কিছু মরদেহ দুই বছর পর্যন্ত শ্মশানে এভাবেই পড়ে থাকতে পারে। গার্সিয়া এ ঘটনায় শ্মশান পরিচালনাকারীদের অবহেলা এবং চরম দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “যতটুকু মরদেহ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আছে, তার বেশি নিলে এমন বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য।”

এ ঘটনায় শ্মশানের একজন প্রশাসক ইতোমধ্যে নিজেকে প্রসিকিউটরদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তবে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে কোনোটি অপরাধমূলক সহিংসতার শিকার কিনা, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতার কারণে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই ফরেনসিক ব্যবস্থার সংকটে ভুগছে। দেশটির মর্গ এবং শ্মশানগুলোতে স্থান সংকুলান, দক্ষ জনবলের অভাব এবং অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে এমন ভয়াবহ চিত্র প্রায়ই সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা দেশটির নাজুক ফরেনসিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

স্থানীয়রা এমন ঘটনায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন, প্রিয়জনের মরদেহকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে এভাবে ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক।

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরের দপ্তর, যাতে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।