ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করলো বন বিভাগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 370

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামীকাল ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। এ সময়সীমায় বনাঞ্চলে পর্যটক প্রবেশ, মাছ ধরা ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের পাস ও পারমিট প্রদান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জলজ জীব ও বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ইতোমধ্যে শ্যামনগরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউ-এর ১৭তম প্যাকেজের নিষেধাজ্ঞা: তুরস্ক সহ একাধিক দেশও এর অন্তর্ভুক্ত

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে গহীন সুন্দরবন থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিরা ফিরতে শুরু করেছেন। তবে তারা বলছেন, টানা তিন মাস কর্মবিরতির ফলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকার যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এমনকি অনেক প্রকৃত বনজীবী সেই সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।

জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার ৯২৮ জন। অথচ খাদ্য সহায়তা পাবেন মাত্র ৮ হাজার ৩২৪ জন। তাদের মধ্যে প্রত্যেককে দুই ধাপে ৭৭ কেজি করে চাল দেয়া হবে। ট্রলার চালক, সহকারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের ট্রলার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, “এই তিন মাস বনজীবীরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। সরকারিভাবে সকল প্রকৃত বনজীবীর জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহকারী এবিএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্মার্ট পেট্রোলিং টিম নিয়মিত টহলে থাকবে।”

তবে একাধিক বনজীবী দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জন্য কঠোর হলেও প্রভাবশালী অসাধু চক্র এই সময়ও বনাঞ্চলে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব চক্র নির্বিঘ্নে বনজ সম্পদ লুটে নেয়।

একজন জেলে বলেন, “আমরা বনে গেলে ধরা পড়ি, কিন্তু ওরা দিব্যি মাছ ধরে। বনের মুখে টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম থাকার পরও তারা কীভাবে ঢোকে? এর দায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকেই নিতে হবে।”

সাধারণ জেলে ও স্থানীয়রা সুন্দরবনে সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি যথাযথভাবে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করলো বন বিভাগ

আপডেট সময় ১১:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

 

আগামীকাল ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। এ সময়সীমায় বনাঞ্চলে পর্যটক প্রবেশ, মাছ ধরা ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের পাস ও পারমিট প্রদান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জলজ জীব ও বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ইতোমধ্যে শ্যামনগরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সুন্দরবন রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট কনক্রিট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে গহীন সুন্দরবন থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিরা ফিরতে শুরু করেছেন। তবে তারা বলছেন, টানা তিন মাস কর্মবিরতির ফলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকার যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এমনকি অনেক প্রকৃত বনজীবী সেই সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।

জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার ৯২৮ জন। অথচ খাদ্য সহায়তা পাবেন মাত্র ৮ হাজার ৩২৪ জন। তাদের মধ্যে প্রত্যেককে দুই ধাপে ৭৭ কেজি করে চাল দেয়া হবে। ট্রলার চালক, সহকারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের ট্রলার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, “এই তিন মাস বনজীবীরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। সরকারিভাবে সকল প্রকৃত বনজীবীর জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহকারী এবিএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্মার্ট পেট্রোলিং টিম নিয়মিত টহলে থাকবে।”

তবে একাধিক বনজীবী দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জন্য কঠোর হলেও প্রভাবশালী অসাধু চক্র এই সময়ও বনাঞ্চলে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব চক্র নির্বিঘ্নে বনজ সম্পদ লুটে নেয়।

একজন জেলে বলেন, “আমরা বনে গেলে ধরা পড়ি, কিন্তু ওরা দিব্যি মাছ ধরে। বনের মুখে টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম থাকার পরও তারা কীভাবে ঢোকে? এর দায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকেই নিতে হবে।”

সাধারণ জেলে ও স্থানীয়রা সুন্দরবনে সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি যথাযথভাবে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।