ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে গম চাষে নতুন সম্ভাবনা: কৃষকদের লাভের আশা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • / 250

ছবি: সংগৃহীত

 

হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এই বছর গম চাষের দিকে নজর দিয়েছেন কৃষকরা। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো বোরো চাষের পরিবর্তে তারা গম চাষে ঝুঁকছেন। চাষিরা বলছেন, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার অভাবের কারণে গম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা দাবি করছেন, গম চাষে খরচ কম, এবং সেচের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে, এ বছর তারা ভালো ফলন প্রত্যাশা করছেন।

পঞ্চগড়ের কৃষি সমৃদ্ধ এলাকায় এখন ব্যাপক গমের ক্ষেত দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছর যেখানে বোরো চাষ হতো, সেখানে এবার গমের ক্ষেত। কৃষকরা জানিয়েছেন, গম চাষে খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি, একই জমিতে বছরে তিনটি আবাদ করা সম্ভব। গমের পর পাট এবং পাটের পর আমন আবাদ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক। ফলে, এবছর অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন  পঞ্চগড় শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে

তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, তিনি এবার দুই একর জমিতে গম চাষ করেছেন। একরে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে, এবং তিনবার সার ও সেচ দিতে হয়েছে। তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম পাওয়া যাবে।

সদর উপজেলার সীতা গ্রামের সলেমান আলী জানান, এবারের গমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কৃষি অফিস তাদের যথাযথ সহযোগিতা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি, কিন্তু একদিনও কৃষি অফিসের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবারের গমের ফলন ভালো হয়েছে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে গম কাটার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, এবছর জেলার ২১ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৯০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদনের আশা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ে গম চাষে নতুন সম্ভাবনা: কৃষকদের লাভের আশা

আপডেট সময় ০২:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫

 

হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এই বছর গম চাষের দিকে নজর দিয়েছেন কৃষকরা। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো বোরো চাষের পরিবর্তে তারা গম চাষে ঝুঁকছেন। চাষিরা বলছেন, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার অভাবের কারণে গম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা দাবি করছেন, গম চাষে খরচ কম, এবং সেচের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে, এ বছর তারা ভালো ফলন প্রত্যাশা করছেন।

পঞ্চগড়ের কৃষি সমৃদ্ধ এলাকায় এখন ব্যাপক গমের ক্ষেত দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছর যেখানে বোরো চাষ হতো, সেখানে এবার গমের ক্ষেত। কৃষকরা জানিয়েছেন, গম চাষে খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি, একই জমিতে বছরে তিনটি আবাদ করা সম্ভব। গমের পর পাট এবং পাটের পর আমন আবাদ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক। ফলে, এবছর অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন  পঞ্চগড় সীমান্তে ফের ১৭ বাংলাদেশিকে ঠেলে পাঠালো বিএসএফ

তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, তিনি এবার দুই একর জমিতে গম চাষ করেছেন। একরে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে, এবং তিনবার সার ও সেচ দিতে হয়েছে। তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম পাওয়া যাবে।

সদর উপজেলার সীতা গ্রামের সলেমান আলী জানান, এবারের গমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কৃষি অফিস তাদের যথাযথ সহযোগিতা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি, কিন্তু একদিনও কৃষি অফিসের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবারের গমের ফলন ভালো হয়েছে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে গম কাটার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, এবছর জেলার ২১ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৯০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদনের আশা রয়েছে।