ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী এমপিদের রাষ্ট্রীয় সুবিধাদির আদ্যোপান্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 28

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে দলগত হিসেব অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পেতে যাচ্ছেন। তবে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে—সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী এমপিরাও কি সমান সুযোগ-সুবিধা পান?

আইন ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ এমপি এবং সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী এমপির মধ্যে বেতন-ভাতা বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কোনো পার্থক্য নেই। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ (সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী তাঁরা সকলেই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

একজন নারী সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর বাইরেও তিনি নির্দিষ্ট কিছু মাসিক ভাতা পান:
নির্বাচনি এলাকা ভাতা: ১২,৫০০ টাকা।
আপ্যায়ন ভাতা: ৫,০০০ টাকা।
পরিবহণ ভাতা: ৭০,০০০ টাকা (জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনসহ)।
অফিস ব্যয় ভাতা: ১৫,০০০ টাকা।
বিবিধ ও লন্ড্রি ভাতা: ৭,৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন  বরিশালে পলিথিন প্যাঁচানো হাত পা বাঁধা নারী উদ্ধার

সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) একটি আধুনিক ফ্ল্যাট সুবিধা পান। এছাড়া তাঁদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য তাঁর মেয়াদে একটি জিপ বা মাইক্রোবাস কোনো ধরনের ভ্যাট বা শুল্ক ছাড়াই আমদানি করতে পারেন।

সংসদীয় কাজে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের জন্য এমপিরা বিশেষ ভাতা পান। দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা ট্রাভেল পাস সুবিধা বরাদ্দ থাকে। এছাড়া সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার রাষ্ট্রীয় বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতা পান তাঁরা। আবদাবাসিক টেলিফোন খরচ বাবদ মাসিক ৭,৮০০ টাকা সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত এসব ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। নির্বাচন কমিশনের মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁদের পরিচয় ও মর্যাদা অভিন্ন। ফলে সরাসরি নির্বাচিত হোক বা সংরক্ষিত আসন—সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংরক্ষিত নারী এমপিদের রাষ্ট্রীয় সুবিধাদির আদ্যোপান্ত

আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে দলগত হিসেব অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পেতে যাচ্ছেন। তবে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে—সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী এমপিরাও কি সমান সুযোগ-সুবিধা পান?

আইন ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ এমপি এবং সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী এমপির মধ্যে বেতন-ভাতা বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কোনো পার্থক্য নেই। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ (সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী তাঁরা সকলেই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

একজন নারী সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর বাইরেও তিনি নির্দিষ্ট কিছু মাসিক ভাতা পান:
নির্বাচনি এলাকা ভাতা: ১২,৫০০ টাকা।
আপ্যায়ন ভাতা: ৫,০০০ টাকা।
পরিবহণ ভাতা: ৭০,০০০ টাকা (জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনসহ)।
অফিস ব্যয় ভাতা: ১৫,০০০ টাকা।
বিবিধ ও লন্ড্রি ভাতা: ৭,৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন  বরিশালে পলিথিন প্যাঁচানো হাত পা বাঁধা নারী উদ্ধার

সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) একটি আধুনিক ফ্ল্যাট সুবিধা পান। এছাড়া তাঁদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য তাঁর মেয়াদে একটি জিপ বা মাইক্রোবাস কোনো ধরনের ভ্যাট বা শুল্ক ছাড়াই আমদানি করতে পারেন।

সংসদীয় কাজে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের জন্য এমপিরা বিশেষ ভাতা পান। দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা ট্রাভেল পাস সুবিধা বরাদ্দ থাকে। এছাড়া সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার রাষ্ট্রীয় বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতা পান তাঁরা। আবদাবাসিক টেলিফোন খরচ বাবদ মাসিক ৭,৮০০ টাকা সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত এসব ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। নির্বাচন কমিশনের মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁদের পরিচয় ও মর্যাদা অভিন্ন। ফলে সরাসরি নির্বাচিত হোক বা সংরক্ষিত আসন—সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান।