ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ হাইকোর্টের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য সোহেল রানার জেল আপিলটি কার্যতালিকার ৩৪ নম্বরে এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি ৩৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিন শুনানি শেষে আদালত উভয়ের জেল আপিল গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: সাজা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিলের রায় আজ

এর আগে মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো নথি) সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। এখন ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।

গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক আলোচিত এ মামলার রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

এছাড়া সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ নিহত শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। পরে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ হাইকোর্টের

আপডেট সময় ০২:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য সোহেল রানার জেল আপিলটি কার্যতালিকার ৩৪ নম্বরে এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি ৩৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিন শুনানি শেষে আদালত উভয়ের জেল আপিল গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন  ঢাকা অঞ্চলের ৩১৬ দাবি-আপত্তির শুনানি করছে নির্বাচন কমিশন

এর আগে মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো নথি) সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। এখন ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।

গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক আলোচিত এ মামলার রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

এছাড়া সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ নিহত শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। পরে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।