ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কানাডা, সিঙ্গাপুর নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই’: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে গড়ে তোলার পরিবর্তে দেশের নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ও বাসযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।

শনিবার, ১৩ জুন রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন অঞ্চলে সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবায়িত হয়নি।

বিগত সময়ে দেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রায়ই শোনা যেত বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডার মতো দেশ বানানোর কথা। তবে তিনি বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখতে চান না। বরং দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে আরও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন  টাঙ্গাইলে পুকুরে ডুবে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত প্রতিনিধি। তাদের অংশগ্রহণেই কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব।

পর্যটন নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে এমন একটি সুশৃঙ্খল শহরে পরিণত করা সম্ভব, যেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়মতান্ত্রিক হবে, যানবাহন সঠিকভাবে পার্কিং করবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাড়ে চার মাসে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে তার মনে হয়েছে, বহু কাজ আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেসব কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকারকে একাধিক চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটন ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশেষ বিমানে ঢাকা ফিরে যান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘কানাডা, সিঙ্গাপুর নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই’: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে গড়ে তোলার পরিবর্তে দেশের নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ও বাসযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।

শনিবার, ১৩ জুন রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন অঞ্চলে সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবায়িত হয়নি।

বিগত সময়ে দেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রায়ই শোনা যেত বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডার মতো দেশ বানানোর কথা। তবে তিনি বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখতে চান না। বরং দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে আরও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দামে বড় ধস: ভরিতে কমলো ৬,৫৯০ টাকা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত প্রতিনিধি। তাদের অংশগ্রহণেই কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব।

পর্যটন নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে এমন একটি সুশৃঙ্খল শহরে পরিণত করা সম্ভব, যেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়মতান্ত্রিক হবে, যানবাহন সঠিকভাবে পার্কিং করবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাড়ে চার মাসে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে তার মনে হয়েছে, বহু কাজ আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেসব কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকারকে একাধিক চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটন ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশেষ বিমানে ঢাকা ফিরে যান তিনি।