ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আবারও আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: ডা. শফিকুর রহমান দুই মামলায় জামিনের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান ৯ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু করছে ভারত হাঙ্গেরিতে পিটার ম্যাগিয়ারের বিজয়: অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৬ বছরের অরবান শাসনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভাঙ্গায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ৩৫ ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরু: কঠোর অবস্থানে সেন্টকোম ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭ ইরানের তেল বিক্রি রুখতে বৈশ্বিক জোটের দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে আদালতে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 55

ছবি সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন-কে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

রোববার (৮ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

আরও পড়ুন  পারভেজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে জানা যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন শরিফ ওসমান বিন হাদি-কে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় আসে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই ও এই সময়-এও তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেছিলেন, তিনি তখন দুবাই-এ অবস্থান করছেন এবং হাদি হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এর দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর-এ পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোড-এ ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাদির মৃত্যুর পর দায়ের হওয়া মামলায় ফয়সালের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের গ্রেপ্তারের খবর এলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে আদালতে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন-কে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

রোববার (৮ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

আরও পড়ুন  পারভেজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে জানা যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন শরিফ ওসমান বিন হাদি-কে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় আসে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই ও এই সময়-এও তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেছিলেন, তিনি তখন দুবাই-এ অবস্থান করছেন এবং হাদি হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এর দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর-এ পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোড-এ ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাদির মৃত্যুর পর দায়ের হওয়া মামলায় ফয়সালের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের গ্রেপ্তারের খবর এলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে।