ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে আদালতে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 104

ছবি সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন-কে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

রোববার (৮ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

আরও পড়ুন  পারভেজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে জানা যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন শরিফ ওসমান বিন হাদি-কে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় আসে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই ও এই সময়-এও তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেছিলেন, তিনি তখন দুবাই-এ অবস্থান করছেন এবং হাদি হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এর দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর-এ পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোড-এ ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাদির মৃত্যুর পর দায়ের হওয়া মামলায় ফয়সালের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের গ্রেপ্তারের খবর এলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে আদালতে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন-কে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

রোববার (৮ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

আরও পড়ুন  যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে জানা যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন শরিফ ওসমান বিন হাদি-কে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় আসে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই ও এই সময়-এও তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেছিলেন, তিনি তখন দুবাই-এ অবস্থান করছেন এবং হাদি হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এর দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর-এ পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোড-এ ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাদির মৃত্যুর পর দায়ের হওয়া মামলায় ফয়সালের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের গ্রেপ্তারের খবর এলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে।