ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শতাব্দীর আতঙ্ক ‘নর’ইস্টার’ ঝড় নিয়ে প্রকাশিত হলো চাঞ্চল্যকর সব সত্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 116

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ তুষারপাত, বৃষ্টি ও বন্যা নিয়ে আছড়ে পড়া নর’ইস্টার ঝড়গুলো দিন দিন আরও বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ঝড় এখন আরও ভয়াল ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে। খবর সিএনএনের।

নর’ইস্টার ঝড় সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে গঠিত হয়। এটি তৈরি হয় আর্কটিক অঞ্চলের ঠান্ডা বাতাস ও আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ, আর্দ্র বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে। এই ধরণের ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকে ভুয়া পরিচয়ে এক যুগের চাকরি: চাচা-ভাতিজার চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ফাঁস

১৯৯৩ সালের ‘স্টর্ম অব দ্য সেঞ্চুরি’ ছিল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ঝড়। ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে ধেয়ে আসা এই ঝড়ে কোথাও কোথাও ৬০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয় এবং প্রাণ হারান দুই শতাধিক মানুষ। ২০১০ সালে ‘স্নোম্যাগেডন’ নামের আরেকটি ভয়াবহ ঝড়ে পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ২০ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত হয়। এতে প্রাণ হারান ৪১ জন, আর লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটান।

এই গবেষণার সহলেখক ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী মাইকেল মান জানান, ২০১০ সালের স্নোম্যাগেডনের সময় তিনি ফিলাডেলফিয়ার এক হোটেল কক্ষে তিন দিন আটকে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে এ নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী করে তোলে।

গবেষক দলটি ১৯৪০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের ৯০০টি নর’ইস্টার ঝড় বিশ্লেষণ করে, যেখানে একটি বিশেষ সাইক্লোন ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর গড় সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ১৯৪০ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বাড়তি বাতাসের গতি ঝড়ের ধ্বংসক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের হারও বেড়েছে গড়ে ১০ শতাংশ।

তবে গবেষণাটি জানায়, ভবিষ্যতে এমন ঝড়ের সংখ্যা কমে আসতে পারে। কারণ আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডা ও উষ্ণ বাতাসের মধ্যকার তাপমাত্রার পার্থক্য কমছে, যা নর’ইস্টার ঝড় তৈরির মূল উপাদান। যদিও সংখ্যা কমতে পারে, তবে যেগুলো সৃষ্টি হবে, সেগুলো হবে আরও বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক।

এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ও ভয়াবহ প্রভাবেরই এক জীবন্ত উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

শতাব্দীর আতঙ্ক ‘নর’ইস্টার’ ঝড় নিয়ে প্রকাশিত হলো চাঞ্চল্যকর সব সত্য

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ তুষারপাত, বৃষ্টি ও বন্যা নিয়ে আছড়ে পড়া নর’ইস্টার ঝড়গুলো দিন দিন আরও বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ঝড় এখন আরও ভয়াল ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে। খবর সিএনএনের।

নর’ইস্টার ঝড় সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে গঠিত হয়। এটি তৈরি হয় আর্কটিক অঞ্চলের ঠান্ডা বাতাস ও আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ, আর্দ্র বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে। এই ধরণের ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকে ভুয়া পরিচয়ে এক যুগের চাকরি: চাচা-ভাতিজার চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ফাঁস

১৯৯৩ সালের ‘স্টর্ম অব দ্য সেঞ্চুরি’ ছিল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ঝড়। ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে ধেয়ে আসা এই ঝড়ে কোথাও কোথাও ৬০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয় এবং প্রাণ হারান দুই শতাধিক মানুষ। ২০১০ সালে ‘স্নোম্যাগেডন’ নামের আরেকটি ভয়াবহ ঝড়ে পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ২০ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত হয়। এতে প্রাণ হারান ৪১ জন, আর লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটান।

এই গবেষণার সহলেখক ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী মাইকেল মান জানান, ২০১০ সালের স্নোম্যাগেডনের সময় তিনি ফিলাডেলফিয়ার এক হোটেল কক্ষে তিন দিন আটকে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে এ নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী করে তোলে।

গবেষক দলটি ১৯৪০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের ৯০০টি নর’ইস্টার ঝড় বিশ্লেষণ করে, যেখানে একটি বিশেষ সাইক্লোন ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর গড় সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ১৯৪০ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বাড়তি বাতাসের গতি ঝড়ের ধ্বংসক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের হারও বেড়েছে গড়ে ১০ শতাংশ।

তবে গবেষণাটি জানায়, ভবিষ্যতে এমন ঝড়ের সংখ্যা কমে আসতে পারে। কারণ আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডা ও উষ্ণ বাতাসের মধ্যকার তাপমাত্রার পার্থক্য কমছে, যা নর’ইস্টার ঝড় তৈরির মূল উপাদান। যদিও সংখ্যা কমতে পারে, তবে যেগুলো সৃষ্টি হবে, সেগুলো হবে আরও বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক।

এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ও ভয়াবহ প্রভাবেরই এক জীবন্ত উদাহরণ।