ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ চলমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান চীন ও পাকিস্তানের সংবিধান সংশোধন চাই, সংস্কারের কথা কখনও বলিনি: মির্জা ফখরুল ‎পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্যার্তদের পাশে থাকবে সরকার: অর্থমন্ত্রী ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনাকে গুনতে হতে পারে জরিমানা টানা ষষ্ঠ দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বনভোজন শেষে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের বাংলাদেশকে শুভকামনা জানালেন আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক শাহজালালের মাজারে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা লোপাট

ভারতের গুজরাটে সেতু ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ একজন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 570

ছবি সংগৃহীত

 

 

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মহিসাগর নদীর ওপর গম্ভীরা সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একজন। দুর্ঘটনার তিন দিন পরও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, তবে সালফিউরিক অ্যাসিড ভর্তি একটি ট্যাংকার নদীতে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বুধবার সকালে গুজরাটের বডোদরায় ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেতু ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক যানবাহন নদীতে পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় গুজরাট সরকার ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তিও শুক্রবার সকালে মারা যান।

এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি মরদেহ। নিখোঁজ একজনের সন্ধানে তৃতীয় দিনের মতো চলছে তল্লাশি। তবে নদীতে পড়া একটি ট্যাংকারে থাকা সালফিউরিক অ্যাসিড জলেভেসে গিয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে উদ্ধারকারীদের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

বডোদরার কালেক্টর অনিল ধামেলিয়া জানান, ট্যাংকারে থাকা সালফিউরিক অ্যাসিড পানিতে মিশে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও চামড়ার জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে। নদীর জলে সোডা অ্যাশ মেশার কারণেও সমস্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

এই সেতু দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মধ্য গুজরাট ও সৌরাষ্ট্রের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল গম্ভীরা সেতু। আনন্দ, বডোদরা, ভারুচ, আঙ্কলেশ্বরের বহু মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করতেন। তবে ৪০ বছর পুরনো এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেতু ভেঙে পড়ার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গুজরাট সরকার। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চারজন সরকারি প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পাটেল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের গুজরাটে সেতু ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ একজন

আপডেট সময় ১০:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

 

 

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মহিসাগর নদীর ওপর গম্ভীরা সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একজন। দুর্ঘটনার তিন দিন পরও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, তবে সালফিউরিক অ্যাসিড ভর্তি একটি ট্যাংকার নদীতে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ভবেশ রায় ইস্যুতে ভারতের দাবি অসত্য ও ভিত্তিহীন: প্রেসসচিব

বুধবার সকালে গুজরাটের বডোদরায় ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেতু ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক যানবাহন নদীতে পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় গুজরাট সরকার ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তিও শুক্রবার সকালে মারা যান।

এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি মরদেহ। নিখোঁজ একজনের সন্ধানে তৃতীয় দিনের মতো চলছে তল্লাশি। তবে নদীতে পড়া একটি ট্যাংকারে থাকা সালফিউরিক অ্যাসিড জলেভেসে গিয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে উদ্ধারকারীদের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

বডোদরার কালেক্টর অনিল ধামেলিয়া জানান, ট্যাংকারে থাকা সালফিউরিক অ্যাসিড পানিতে মিশে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও চামড়ার জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে। নদীর জলে সোডা অ্যাশ মেশার কারণেও সমস্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

এই সেতু দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মধ্য গুজরাট ও সৌরাষ্ট্রের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল গম্ভীরা সেতু। আনন্দ, বডোদরা, ভারুচ, আঙ্কলেশ্বরের বহু মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করতেন। তবে ৪০ বছর পুরনো এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেতু ভেঙে পড়ার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গুজরাট সরকার। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চারজন সরকারি প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পাটেল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।