ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিবর্তন: রাজনৈতিক দলকেও শাস্তির আওতায় আনা যাবে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 250

ছবি সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চাইলে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন কিংবা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি দিতে পারবে।

গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের আইনি ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হলো।

আরও পড়ুন  রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও আচরণবিধি নিয়ে ইসির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম রোববার বলেন, “এই সংশোধনের মাধ্যমে সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচার ও শাস্তির বিধান যুক্ত হওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। অন্যান্য আইনেও এমন বিধান থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের এই ট্রাইব্যুনালে সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিচার হলে তা দেশের মানুষ আরও বেশি গ্রহণ করবে।”

জানা গেছে, গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। একই সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দলটির সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যকর হবে, যার মধ্যে সাইবার স্পেসে দলটির কর্মকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়াও সভায় জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি, জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশের দিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সংগঠন যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার অধীন অপরাধ সংঘটন করে বা সহায়তা করে, তবে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। সেই সঙ্গে তাদের নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল, সম্পত্তি জব্দ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

আইনে ‘সংগঠন’ শব্দের পরিসরও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় শুধু রাজনৈতিক দল নয়, দলের অধীনস্থ বা সংশ্লিষ্ট কোনো অঙ্গসংগঠন ও গোষ্ঠীকেও বোঝানো হবে।

এই আইনি পরিবর্তন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিবর্তন: রাজনৈতিক দলকেও শাস্তির আওতায় আনা যাবে

আপডেট সময় ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চাইলে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন কিংবা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি দিতে পারবে।

গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের আইনি ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হলো।

আরও পড়ুন  গেজেট আকারে প্রকাশ পেল রাজনৈতিক দলের বিচারের সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম রোববার বলেন, “এই সংশোধনের মাধ্যমে সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচার ও শাস্তির বিধান যুক্ত হওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। অন্যান্য আইনেও এমন বিধান থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের এই ট্রাইব্যুনালে সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিচার হলে তা দেশের মানুষ আরও বেশি গ্রহণ করবে।”

জানা গেছে, গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। একই সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দলটির সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যকর হবে, যার মধ্যে সাইবার স্পেসে দলটির কর্মকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়াও সভায় জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি, জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশের দিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সংগঠন যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার অধীন অপরাধ সংঘটন করে বা সহায়তা করে, তবে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। সেই সঙ্গে তাদের নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল, সম্পত্তি জব্দ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

আইনে ‘সংগঠন’ শব্দের পরিসরও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় শুধু রাজনৈতিক দল নয়, দলের অধীনস্থ বা সংশ্লিষ্ট কোনো অঙ্গসংগঠন ও গোষ্ঠীকেও বোঝানো হবে।

এই আইনি পরিবর্তন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।