ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যানিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 257

ছবি: সংগৃহীত

 

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ভয়াবহ দুইটি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। এর ফলে প্রায় দুই হাজার পরিবার রাতারাতি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ কোটি ফিলিপাইন পেসো।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) ভোররাতে ম্যানিলার বন্দর এলাকার বারাংগে ৬৫০-তে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা ৩ মিনিটে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বসতবাড়িতে। প্রায় নয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক ঘর।

আরও পড়ুন  আগুনে পুড়ে ছাই গাজীপুরে কলোনির ৫৭ ঘর

একই রাতে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে টন্ডো এলাকার মোরিওনেস স্ট্রিটে। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই আগুনে পুড়ে গেছে আরও অন্তত ৫০০টি ঘর। ম্যানিলা সিটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টন্ডোর বারাংগে ১২৩ এলাকা ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

উভয় ঘটনায় সবমিলিয়ে আশ্রয় হারিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার। আগুন শুধু বাড়িঘরই নয়, কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান অবলম্বন।

অগ্নিকাণ্ডে ঘর হারানো এক বাসিন্দা বলেন, “আমার সবকিছু পুড়ে গেছে। শুধু এই সান্তো নিনোর মূর্তিটাই বেঁচে আছে। টেলিভিশন থেকে শুরু করে সব হারিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন শূন্য থেকে শুরু করবো। সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি, যেন আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারি।”

দুই এলাকায় আগুন নেভাতে ম্যানিলা ফায়ার ডিপার্টমেন্টের বাইশটি ইউনিট এবং আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২৯টি ইউনিট অংশ নেয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শহর কর্তৃপক্ষ স্টিলের ফ্রেম ও টারপলিন দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রতিদিন গরম খাবার এবং অর্থ সহায়তা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় সরকার।

বর্তমানে গৃহহীন মানুষগুলো অস্থায়ী ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়ে ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা তাদের জীবন এক নিমিষেই উলটপালট করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে, তবে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সময় লাগবে বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ম্যানিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই

আপডেট সময় ১১:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

 

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ভয়াবহ দুইটি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। এর ফলে প্রায় দুই হাজার পরিবার রাতারাতি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ কোটি ফিলিপাইন পেসো।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) ভোররাতে ম্যানিলার বন্দর এলাকার বারাংগে ৬৫০-তে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা ৩ মিনিটে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বসতবাড়িতে। প্রায় নয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক ঘর।

আরও পড়ুন  আইসিসি’র জেলে থেকেও নির্বাচনী জয়, আবারও ফিলিপাইনের মেয়র রদ্রিগো দুতের্তে

একই রাতে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে টন্ডো এলাকার মোরিওনেস স্ট্রিটে। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই আগুনে পুড়ে গেছে আরও অন্তত ৫০০টি ঘর। ম্যানিলা সিটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টন্ডোর বারাংগে ১২৩ এলাকা ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

উভয় ঘটনায় সবমিলিয়ে আশ্রয় হারিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার। আগুন শুধু বাড়িঘরই নয়, কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান অবলম্বন।

অগ্নিকাণ্ডে ঘর হারানো এক বাসিন্দা বলেন, “আমার সবকিছু পুড়ে গেছে। শুধু এই সান্তো নিনোর মূর্তিটাই বেঁচে আছে। টেলিভিশন থেকে শুরু করে সব হারিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন শূন্য থেকে শুরু করবো। সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি, যেন আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারি।”

দুই এলাকায় আগুন নেভাতে ম্যানিলা ফায়ার ডিপার্টমেন্টের বাইশটি ইউনিট এবং আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২৯টি ইউনিট অংশ নেয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শহর কর্তৃপক্ষ স্টিলের ফ্রেম ও টারপলিন দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রতিদিন গরম খাবার এবং অর্থ সহায়তা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় সরকার।

বর্তমানে গৃহহীন মানুষগুলো অস্থায়ী ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়ে ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা তাদের জীবন এক নিমিষেই উলটপালট করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে, তবে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সময় লাগবে বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।