ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  অর্থাভাবে থেমে থাকেনি মিমির পথচলা, পাশে দাঁড়ালেন তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং যতবার গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, যাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই তাঁদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তত দিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। তাঁর ভাষ্য, ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।

তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তারুণ্য প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনো আপস করেনি।

সূত্র: বাসস

 

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিলেন জামায়াত আমির, নির্বাচনের প্রস্তুতির ডাক তারেক রহমানের

তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং যতবার গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, যাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই তাঁদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তত দিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। তাঁর ভাষ্য, ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।

তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তারুণ্য প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনো আপস করেনি।

সূত্র: বাসস