ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিছু দল: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 44

ছবি সংগৃহীত

 

ফেনীতে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি এসব দলের নেতাদের নিজেদের দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন  দিল্লি এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কেন ফিরে আসলেন?

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যখন দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি, তখন তারা বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রবীণদের মনে থাকার কথা। তাঁর অভিযোগ, সে সময়ের মতো আবারও নির্যাতন শুরু হয়েছে। নির্যাতনের পাশাপাশি একজন মানুষের জীবনাবসান ঘটানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন বিভিন্ন বিষয়ে অন্যদের উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া এবং দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে তারা দেশের মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, এখনও একই ধরনের ভূমিকা রাখছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসন পাওয়ার পর তারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—কার কথা বিশ্বাস করতে হবে, আর কার কথা বিশ্বাস করা উচিত নয়।

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে যারা কাজ করছেন, তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন এবং অতিরিক্ত এক লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন।

এ ছাড়া বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক কলকারখানা পুনরায় চালু করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ৫০ শয্যার সব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে জিয়াউর রহমান হাসপাতালগুলো ৩০ শয্যায় এবং বেগম খালেদা জিয়া ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কারণে কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই সরকার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে রেখেছিল। কাউকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি, মানুষের কথাও শোনা হয়নি। অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে জনগণ সেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব অনুযায়ী সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিছু দল: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

ফেনীতে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি এসব দলের নেতাদের নিজেদের দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় তারেক রহমান, শুরু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যখন দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি, তখন তারা বানোয়াট ইস্যু তৈরি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রবীণদের মনে থাকার কথা। তাঁর অভিযোগ, সে সময়ের মতো আবারও নির্যাতন শুরু হয়েছে। নির্যাতনের পাশাপাশি একজন মানুষের জীবনাবসান ঘটানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন বিভিন্ন বিষয়ে অন্যদের উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া এবং দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে তারা দেশের মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, এখনও একই ধরনের ভূমিকা রাখছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসন পাওয়ার পর তারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—কার কথা বিশ্বাস করতে হবে, আর কার কথা বিশ্বাস করা উচিত নয়।

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে যারা কাজ করছেন, তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন এবং অতিরিক্ত এক লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন।

এ ছাড়া বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক কলকারখানা পুনরায় চালু করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ৫০ শয্যার সব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে জিয়াউর রহমান হাসপাতালগুলো ৩০ শয্যায় এবং বেগম খালেদা জিয়া ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কারণে কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই সরকার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে রেখেছিল। কাউকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি, মানুষের কথাও শোনা হয়নি। অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে জনগণ সেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব অনুযায়ী সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।