ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ নয়: অর্থমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 31

ছবি সংগৃহীত

 

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত হবে, আমানতকারীদের স্বার্থেই কাজ করছি: গভর্নর

অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে দীর্ঘদিনের খুচরা বা রিটেইল বিনিয়োগকারীনির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীনির্ভর বাজারে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজারের কার্যক্রমকে পুরোপুরি কাগজবিহীন করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের কথাও বলেন তিনি।

আইসিবিকে প্রচলিত কার্যক্রমের ধারা থেকে বের হয়ে বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে বিশ্বের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, জলবায়ু তহবিল ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈশ্বিক পুঁজি আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত ব্যাংকনির্ভরতার বাইরে এসে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও চর্চার সঙ্গে নিজেদের অভ্যস্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, যথাযথ বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া বিনিয়োগ এবং উচ্চ সুদে অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করা আইসিবির বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ নয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

 

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  নতুন নোট বিক্রি বেআইনি, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে দীর্ঘদিনের খুচরা বা রিটেইল বিনিয়োগকারীনির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীনির্ভর বাজারে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজারের কার্যক্রমকে পুরোপুরি কাগজবিহীন করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের কথাও বলেন তিনি।

আইসিবিকে প্রচলিত কার্যক্রমের ধারা থেকে বের হয়ে বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে বিশ্বের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, জলবায়ু তহবিল ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈশ্বিক পুঁজি আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত ব্যাংকনির্ভরতার বাইরে এসে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও চর্চার সঙ্গে নিজেদের অভ্যস্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, যথাযথ বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া বিনিয়োগ এবং উচ্চ সুদে অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করা আইসিবির বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।