মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় তারেক রহমান, শুরু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- আপডেট সময় ১০:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 23
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মুখোমুখি বৈঠকে বসেন দুই সরকারপ্রধান।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রায় পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। সকাল ৯টায় তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
স্বাগত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দুই দেশের জাতীয় পতাকা শোভা পায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন মাদানী স্কয়ারেও বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা সারিবদ্ধভাবে উত্তোলন করা হয়।
দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার মালয়েশিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর হওয়ায় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি, হালাল শিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে এবারের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
























