মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় বোন হারানো তাহসিনের পাশে প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 41
মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় বোনকে হারানো কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহকে সাক্ষাতের জন্য ডেকে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন তিনি। এ সময় নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহারও তুলে দেন তাহসিনের হাতে।
গত ২৭ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাহসিনের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ছবিতে তার প্রাণখোলা হাসি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরে জানা যায়, হাসিমাখা সেই মুখের আড়ালে রয়েছে গভীর পারিবারিক বেদনার গল্প। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তাহসিন তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারায়। পরিবার জানিয়েছে, একই স্কুলে পড়লেও দুর্ঘটনার সময় তারা ভিন্ন ভবনে ছিল। যুদ্ধবিমানটি তাসনিয়ার ভবনে বিধ্বস্ত হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর বড় বোনকে খুঁজতে ছুটে যায় তাহসিন। কারও কাছ থেকে স্যালাইন ও পানির প্রয়োজনের কথা শুনে সে সেগুলো নিয়ে অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত বোনকে আর ফিরে পায়নি।
পরিবার আরও জানায়, ওই দুর্ঘটনার পর তাহসিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একটি হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, বড় বোনকে হারানোর কষ্ট সে এখনো ভুলতে পারেনি এবং তাকে খুব বেশি মনে পড়ে।
তবে ২৭ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাহসিনের উচ্ছ্বাস ও হাসিমাখা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ভাইরাল সেই ছবির পেছনে রয়েছে মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর বেদনাময় ইতিহাস। এরপর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারে তার নার্সারিতে পড়ুয়া আরও এক ছোট বোন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের লেখাপড়ার খোঁজ নেন এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়, তা জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং মানুষকে আকৃষ্ট করবে।
প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, নিয়মিত খেলাধুলা এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। এরপর প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহার তার হাতে তুলে দেন।
সাক্ষাৎ শেষে তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে এই অভিজ্ঞতার কথা বলার জন্য সে অপেক্ষা করছে বলেও জানায়।
তাহসিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যের মতো আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। এ কারণে তার কোনো ধরনের অস্বস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সুযোগও হয়েছে তার। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তার ভালো লেগেছে এবং বাবার মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তুলেছে বলে জানায় সে।
সাক্ষাৎকালে মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।






















