ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন সমর্থকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চায় সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 44

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপ চলাকালে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে। পরে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মুখোমুখি হবে দলটি। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের আচরণ ও আইনি অবস্থান নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা। তালিকাভুক্তদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচন উপলক্ষে ২৪ ঘণ্টা নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি

আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের মতে, যারা নিজেদের সন্তানের আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি বলেছেন, যারা নিজেদের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ, তাদের কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আর্জেন্টিনা সরকার। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া কিংবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশে বাধা দেওয়া।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এ ধরনের ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

২০২৩ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় আর্জেন্টিনার ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

তবে শুধু ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নয়, সহিংস অপরাধে জড়িতদের নামও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, তালিকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি যেন এই বৈশ্বিক আসরে প্রবেশ করতে না পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন সমর্থকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চায় সরকার

আপডেট সময় ০১:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ চলাকালে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে। পরে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মুখোমুখি হবে দলটি। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের আচরণ ও আইনি অবস্থান নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা। তালিকাভুক্তদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের মতে, যারা নিজেদের সন্তানের আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি বলেছেন, যারা নিজেদের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ, তাদের কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আর্জেন্টিনা সরকার। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া কিংবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশে বাধা দেওয়া।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এ ধরনের ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

২০২৩ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় আর্জেন্টিনার ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

তবে শুধু ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নয়, সহিংস অপরাধে জড়িতদের নামও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, তালিকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি যেন এই বৈশ্বিক আসরে প্রবেশ করতে না পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।