ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পাতিলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 46

ছবি: সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজারের ঐতিহাসিক পাতিলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৩ জুন সকালে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে খালের পাড়ে একটি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।

পাতিলী খালটি দেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালী এলাকায় এসে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। সে সময় খালপাড়ে তার রোপণ করা একটি খেজুরগাছ এখনও সেখানে রয়েছে।

সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, খালটি দেশের কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় এই উদ্যোগ দেখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অতিথি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং খালের পানি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জমিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে কয়েক বছর পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং কিছু অংশ দখলের শিকার হয়। ফলে স্থানীয় কৃষকদের সেচ ও চাষাবাদ কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।

তিনি জানান, প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ খালপাড় এলাকায় জড়ো হন। স্থানীয় কৃষক জাহেদ আলী বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী অস্থায়ী মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

এছাড়া নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন এবং সন্ধ্যায় একটি সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পাতিলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

 

কক্সবাজারের ঐতিহাসিক পাতিলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৩ জুন সকালে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে খালের পাড়ে একটি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।

পাতিলী খালটি দেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালী এলাকায় এসে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। সে সময় খালপাড়ে তার রোপণ করা একটি খেজুরগাছ এখনও সেখানে রয়েছে।

সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, খালটি দেশের কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় এই উদ্যোগ দেখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অতিথি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং খালের পানি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জমিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে কয়েক বছর পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং কিছু অংশ দখলের শিকার হয়। ফলে স্থানীয় কৃষকদের সেচ ও চাষাবাদ কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।

তিনি জানান, প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ খালপাড় এলাকায় জড়ো হন। স্থানীয় কৃষক জাহেদ আলী বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী অস্থায়ী মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

এছাড়া নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন এবং সন্ধ্যায় একটি সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।