‘দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান’: সংসদে ববি হাজ্জাজ
- আপডেট সময় ০৬:৩১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 6
বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম শোচনীয় দশা হয়েছে মন্তব্য করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়কে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।
রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের মনোভাব নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্যের শুরুতে নতুন বাজেটকে ‘জনগণবান্ধব’ এবং ‘আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে, শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সামগ্রিক শিক্ষাখাতে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
“বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান ভাবা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও প্রশাসনে বড় সংস্কার হাত দেওয়া হয়েছে।”— সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার যখন প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন বলছেন, সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও সৃজনশীল চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। আর সেজন্যই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করা হয়েছে।
বাজেটের অর্থনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “এটি একটি আশাবাদী বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং বন্ধ থাকা পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে ‘সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনে’র সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রাখা হয়েছে।”
শিক্ষা বাজেটের আকার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্ব দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জনে ও অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।

























