ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতিহাস গড়ে ২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 190

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে এক নতুন ও গৌরবময় ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

পাহাড়সম রান তাড়া করতে নামা শক্তিশালী পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে ঘরের মাটিতে তাদের প্রথমবার টেস্ট সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজটি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। ১৬২ রানেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল চতুর্থ দিনেই ম্যাচটি শেষ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন  ইতিহাসের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ৬ নারী অপরাধী

তবে ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগার ১৩৪ রানের একটি চোখধাঁধানো ও অনবদ্য জুটি টাইগার শিবিরে কিছুটা ভয়ের উদ্রেক করেছিল। শেষ বিকেলে স্পিনার তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে সেই ভয় কেটে যায় এবং চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তুলে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩টি উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান।

আজ বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের সকালে ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামেন অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই সাজিদ ও রিজওয়ান দ্রুত রান তুলে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দিতে শুরু করেছিল। ম্যাচের এই স্নায়ুচাপের মুহূর্তে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার বলে রিজওয়ানের দেওয়া একটি সহজ ক্যাচ স্লিপে মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জীবন পেয়ে রিজওয়ান-সাজিদ জুটি আরও বেশি চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন।

তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ব্রেক-থ্রু এনে দেন সেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি প্রথমে নিজের ‘ফাইফার’ (৫ উইকেট) পূর্ণ করেন এবং একই সাথে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভাঙেন। সাজিদ বিদায় নেওয়ার পরপরই সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৯৪ রানে আউট করেন পেসার শরিফুল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি তুলে নিলে সফরকারীরা ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশ পায় ৭৮ রানের এক অবিস্মরণীয় জয়। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে একাই সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মহাকাব্য লেখেন তাইজুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে ২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই

আপডেট সময় ০১:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে এক নতুন ও গৌরবময় ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

পাহাড়সম রান তাড়া করতে নামা শক্তিশালী পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে ঘরের মাটিতে তাদের প্রথমবার টেস্ট সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজটি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। ১৬২ রানেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল চতুর্থ দিনেই ম্যাচটি শেষ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন  ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ও বৈচিত্র্যের শক্তি

তবে ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগার ১৩৪ রানের একটি চোখধাঁধানো ও অনবদ্য জুটি টাইগার শিবিরে কিছুটা ভয়ের উদ্রেক করেছিল। শেষ বিকেলে স্পিনার তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে সেই ভয় কেটে যায় এবং চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তুলে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩টি উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান।

আজ বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের সকালে ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামেন অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই সাজিদ ও রিজওয়ান দ্রুত রান তুলে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দিতে শুরু করেছিল। ম্যাচের এই স্নায়ুচাপের মুহূর্তে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার বলে রিজওয়ানের দেওয়া একটি সহজ ক্যাচ স্লিপে মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জীবন পেয়ে রিজওয়ান-সাজিদ জুটি আরও বেশি চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন।

তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ব্রেক-থ্রু এনে দেন সেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি প্রথমে নিজের ‘ফাইফার’ (৫ উইকেট) পূর্ণ করেন এবং একই সাথে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভাঙেন। সাজিদ বিদায় নেওয়ার পরপরই সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৯৪ রানে আউট করেন পেসার শরিফুল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি তুলে নিলে সফরকারীরা ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশ পায় ৭৮ রানের এক অবিস্মরণীয় জয়। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে একাই সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মহাকাব্য লেখেন তাইজুল ইসলাম।