ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
অটোমেক টু পয়েন্ট জিরো’র উদ্বোধন, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান শিমুল বিশ্বাসের স্পাইডারম্যানের নতুন রেকর্ড মরক্কো থেকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টায় ৩৪ অভিবাসীর মৃ/ত্যু ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: ফখরুল আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাংলাদেশিদের ভিসা বাড়াতে তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে: আইনমন্ত্রী ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—বরিশালে তথ্যমন্ত্রীর জামায়াত নিষিদ্ধের ৩ দিনের মাথায় হাসিনার পতন: শফিকুর নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

ভারতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়: শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতীয় সংসদীয় কমিটিকে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলেও কমিটিকে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনার দোসরদের অপসারণে না থাকায় ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি জুলাই ঐক্যের

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক ঐতিহ্য এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত একই সঙ্গে এ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে যে, তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর আহ্বানও জানানো হয়েছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরুর সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়: শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতীয় সংসদীয় কমিটিকে

আপডেট সময় ০২:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলেও কমিটিকে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  নতুন পথের সন্ধানে ভারত-বাংলাদেশ ব্যাংককে মোদি-ইউনূস বৈঠকে সম্পর্কের উষ্ণতা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক ঐতিহ্য এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত একই সঙ্গে এ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে যে, তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর আহ্বানও জানানো হয়েছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরুর সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।