শাপলা গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে: মামুনুল হক
- আপডেট সময় ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 103
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ভয়াল ও বেদনাবিধুর’ আখ্যা দিয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির এবং হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের সেই রাতের স্মৃতি জাতির হৃদয়ে এক দগদগে ক্ষত, যা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মামুনুল হক লেখেন, ওই দিন তিনি গাবতলী পয়েন্টে অবরোধের দায়িত্বে ছিলেন এবং পরে বিশাল মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে অগ্রসর হন। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোত দেখে তৎকালীন ‘ফাসিবাদী শক্তি’ দিশেহারা হয়ে নিরীহ মানুষের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, পল্টন ও দৈনিক বাংলা মোড়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা সেদিন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামুনুল হক সেই রাতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রাত ২টার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাকআউট) করে চারদিক থেকে মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়। অস্ত্রের মুখে নিরস্ত্র নবীপ্রেমিক জনতা অসহায় হয়ে পড়েছিল। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শহীদদের নিয়ে প্রামাণ্য কাজ করা সম্ভব না হলেও, বর্তমানে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’-এর মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
এ বছর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫ মে স্মরণে কর্মসূচি গ্রহণ করাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও ছাত্র মজলিস, যুব মজলিস, ছাত্র শিবির, ছাত্র জমিয়ত, ইনকিলাব মঞ্চ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ (ডাকসু, চাকসু, রাকসু) এই ইতিহাসকে ধারণ করছে। এটি জাতীয় দায়বোধ জাগ্রত করার একটি বড় ইঙ্গিত।
সবশেষে মামুনুল হক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “শাপলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই আমাদের মূল অঙ্গীকার।” শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠার এই লড়াই থামবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

























