০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান: কাল রাজধানীতে যান চলাচলে ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা রমজানে সাধারণের স্বস্তি: কাল থেকে টিসিবির ট্রাকে মিলবে ছোলা ও খেজুর সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ বাংলাদেশি ওমারজাইয়ের অলরাউন্ড দাপট: আমিরাতকে হারিয়ে প্রথম জয় আফগানদের ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণাকে ইতিবাচক বলল বিএনপি মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রলোভনে গুদামে বন্দি: টেকনাফে নারী-শিশুসহ ১৫ জন উদ্ধার ‘জুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর করছে এনসিপি: সন্ধ্যায় যমুনায় যাচ্ছেন নাহিদরা সংসদ সদস্য থেকে সংস্কার পরিষদ: মঙ্গলবার দুই শপথ শপথের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে বিএনপি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বার বার ভাঙনে অস্থিত্ব সংকটে অনেক রাজনৈতিক দল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / 209

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের বামপন্থী ও ডানপন্থী উভয় পন্থী দলগুলো বার বার ভাঙনের মুখে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেক ছোট হয়ে গেছে দলগুলি। পাশাপাশি একই নামে অনেক দল থাকায় পরিচয় সংকটে দলের নেতাকর্মীরা। ভাঙনের কারণে বাংলাদেশে একই নামে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে। দলগুলোর নাম এক হলেও তারা দৃশত আলাদা দল।

স্বাধীনতার আগে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এবং স্বাধীনতার পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল বার বার ভাঙনের মুখে পড়েছে। দলগুলো ভেঙ্গে গেলোও একই নাম থাকে উভয় পক্ষের। এছাড়া তাদের ছাত্র সংগঠনের নামও একই থাকে ফলে সৃষ্টি হয় পরিচয় সংকট। ন্যাপ প্রথমে ভাঙনের পর ন্যাপ ভাসানী ও ন্যাপ মোজাফ্ফর নামে দুটি স্রোতধারার সৃষ্টি হয়। প্রথমটি চীনপন্থি এবং পরেরটি মস্কোপন্থি । এ দুটির নেতৃত্ব ভেঙে পরে একাধিক দল তৈরী হয়।

আমাদের লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র শ্লোগানে গড়ে ওঠা জাসদ ভেঙ্গেছে একাধিক বার। ১৯৭২ সালে গঠিত জাসদ ভেঙ্গে প্রথমে দুই ধারা সৃষ্টি হয়। জাসদ (রব) ও জাসদ (সিরাজ) নামে পরিচিতি লাভ করে জাসদের দুই অংশ। শাহাজাহান সিরাজের নেতৃত্বে যে অংশটি ছিলো সেটিও ছিলো জাসদ আবার আ.স.ম আব্দুর রবের নেতৃত্বে যে অংশ ছিলো তার নাম জাসদ। পরে জাসদ (ইনু) নামে আরেকটি নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে জাসদ ভেঙে বাসদের সৃষ্টি হয়। ভাঙাভাঙির মুখে অনেক নেতাই বিভিন্ন নামে দল গঠন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও বিপ্লব প্রতিবিপ্লবে একাধিক ভাবে বিভক্ত। মার্কবাদী বা মাওবাদী রাজনৈতিক দলের পাশপাশি ডানপন্থী দলগুলোও ভেঙ্গেছে অনেক বার। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টির এখন ৬ ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে তিনটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। সেগুলো হলো জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। অন্য দলগুলো হচ্ছে জাতীয় পার্টি (রওশন), জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জাতীয় পার্টি (আনিসুল-হাওলাদার)।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল নামেও একাধিক দল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাহবুব), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (রেজা) উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (দিলীপ বড়ুয়া), সাম্যবাদী দল (জাকির)। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে মন্ত্রী হয়েছিলেন। গণতন্ত্রী পার্টি নামে দুটি দলের দেখা পাওয়া গেছে। দল দুুটি হলো গণতন্ত্রী পার্টি (শাহাদাৎ) ও গণতন্ত্রী পার্টি (ব্যারিস্টার আরশ)। খেলাফত মজলিস নামে দুটি দলের নিবন্ধন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। ওয়ার্কার্স পার্টি কমরেড অমল সেনের মৃত্যুর পর থেকে কয়েকবার ভেঙ্গেছে। কমরেড টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্ব একবার। কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ ও কমরেড সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একবার। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নামের দুইটি দল এখন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শেখ হাসিনার কেবিনেটে দু্ই দফা মন্ত্রী ছিলেন। বার বার ভাঙনের মুখে যেমন অস্থিত্ব সংকটে দলগুলি । তেমনি তাদের নেতাকর্মীরাও রয়েছে পরিচয় সংকটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বার বার ভাঙনে অস্থিত্ব সংকটে অনেক রাজনৈতিক দল

আপডেট সময় ১২:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

 

বাংলাদেশের বামপন্থী ও ডানপন্থী উভয় পন্থী দলগুলো বার বার ভাঙনের মুখে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেক ছোট হয়ে গেছে দলগুলি। পাশাপাশি একই নামে অনেক দল থাকায় পরিচয় সংকটে দলের নেতাকর্মীরা। ভাঙনের কারণে বাংলাদেশে একই নামে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে। দলগুলোর নাম এক হলেও তারা দৃশত আলাদা দল।

স্বাধীনতার আগে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এবং স্বাধীনতার পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল বার বার ভাঙনের মুখে পড়েছে। দলগুলো ভেঙ্গে গেলোও একই নাম থাকে উভয় পক্ষের। এছাড়া তাদের ছাত্র সংগঠনের নামও একই থাকে ফলে সৃষ্টি হয় পরিচয় সংকট। ন্যাপ প্রথমে ভাঙনের পর ন্যাপ ভাসানী ও ন্যাপ মোজাফ্ফর নামে দুটি স্রোতধারার সৃষ্টি হয়। প্রথমটি চীনপন্থি এবং পরেরটি মস্কোপন্থি । এ দুটির নেতৃত্ব ভেঙে পরে একাধিক দল তৈরী হয়।

আমাদের লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র শ্লোগানে গড়ে ওঠা জাসদ ভেঙ্গেছে একাধিক বার। ১৯৭২ সালে গঠিত জাসদ ভেঙ্গে প্রথমে দুই ধারা সৃষ্টি হয়। জাসদ (রব) ও জাসদ (সিরাজ) নামে পরিচিতি লাভ করে জাসদের দুই অংশ। শাহাজাহান সিরাজের নেতৃত্বে যে অংশটি ছিলো সেটিও ছিলো জাসদ আবার আ.স.ম আব্দুর রবের নেতৃত্বে যে অংশ ছিলো তার নাম জাসদ। পরে জাসদ (ইনু) নামে আরেকটি নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে জাসদ ভেঙে বাসদের সৃষ্টি হয়। ভাঙাভাঙির মুখে অনেক নেতাই বিভিন্ন নামে দল গঠন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও বিপ্লব প্রতিবিপ্লবে একাধিক ভাবে বিভক্ত। মার্কবাদী বা মাওবাদী রাজনৈতিক দলের পাশপাশি ডানপন্থী দলগুলোও ভেঙ্গেছে অনেক বার। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টির এখন ৬ ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে তিনটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। সেগুলো হলো জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। অন্য দলগুলো হচ্ছে জাতীয় পার্টি (রওশন), জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জাতীয় পার্টি (আনিসুল-হাওলাদার)।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল নামেও একাধিক দল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাহবুব), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (রেজা) উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (দিলীপ বড়ুয়া), সাম্যবাদী দল (জাকির)। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে মন্ত্রী হয়েছিলেন। গণতন্ত্রী পার্টি নামে দুটি দলের দেখা পাওয়া গেছে। দল দুুটি হলো গণতন্ত্রী পার্টি (শাহাদাৎ) ও গণতন্ত্রী পার্টি (ব্যারিস্টার আরশ)। খেলাফত মজলিস নামে দুটি দলের নিবন্ধন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। ওয়ার্কার্স পার্টি কমরেড অমল সেনের মৃত্যুর পর থেকে কয়েকবার ভেঙ্গেছে। কমরেড টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্ব একবার। কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ ও কমরেড সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একবার। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নামের দুইটি দল এখন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শেখ হাসিনার কেবিনেটে দু্ই দফা মন্ত্রী ছিলেন। বার বার ভাঙনের মুখে যেমন অস্থিত্ব সংকটে দলগুলি । তেমনি তাদের নেতাকর্মীরাও রয়েছে পরিচয় সংকটে।