ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

গেজেট আকারে প্রকাশ পেল রাজনৈতিক দলের বিচারের সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 223

ছবি সংগৃহীত

 

 

আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রেখে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত আইনটির গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে শনিবার (১০ মে) রাতে। বিষয়টি রোববার (১১ মে) জানা যায়।

আরও পড়ুন  আজ ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত গেজেটে বলা হয়, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (দ্বিতীয় সংশোধনী) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ প্রণয়ন ও জারি করেছেন।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনো রাজনৈতিক দল, এর অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ট্রাইব্যুনাল প্রয়োগ করতে পারবে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, “জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনতেই এই আইনি সংশোধনী আনা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সকল কার্যক্রম, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত কার্যক্রম, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ থাকবে।”

নতুন সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধে সহায়তা, নির্দেশনা, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা সরাসরি অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংশোধনী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাজনৈতিক সহিংসতা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করবে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গেজেট আকারে প্রকাশ পেল রাজনৈতিক দলের বিচারের সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইন

আপডেট সময় ০২:০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

 

আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রেখে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত আইনটির গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে শনিবার (১০ মে) রাতে। বিষয়টি রোববার (১১ মে) জানা যায়।

আরও পড়ুন  ঢাকায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন, গাজীপুরের ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত গেজেটে বলা হয়, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (দ্বিতীয় সংশোধনী) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ প্রণয়ন ও জারি করেছেন।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনো রাজনৈতিক দল, এর অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ট্রাইব্যুনাল প্রয়োগ করতে পারবে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, “জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনতেই এই আইনি সংশোধনী আনা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সকল কার্যক্রম, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত কার্যক্রম, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ থাকবে।”

নতুন সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধে সহায়তা, নির্দেশনা, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা সরাসরি অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংশোধনী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাজনৈতিক সহিংসতা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করবে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।