ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / 218

ছবি সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন শোষণ নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল।

আরও পড়ুন  সংস্কার সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি, দ্রুত নির্বাচনের আশা: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

এফবিআই জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুদের যৌন শোষণের একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ ছিল। ওই সময় থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে নজরদারি শুরু করে মার্কিন গোয়েন্দারা।

এফবিআইয়ের কুয়ালালামপুর শাখা এবং মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় দেশটিতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে এফবিআইয়ের অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের তত্ত্বাবধানে বিমানযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় আদালতে তাকে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই অপরাধ কেবল আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না; যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিদেশেও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।

জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়াতেও শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সমন্বয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি এস. লেইন টাকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব—এই ঘটনা তার উদাহরণ।

এফবিআই অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ অ্যান্টনি জাং বলেন, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদের ছবি পাঠাতে বাধ্য করা হতো এবং অস্বীকার করলে সেগুলো ফাঁস করার হুমকি দেওয়া হতো।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি শিশু শোষণ ও মানব পাচারবিরোধী একটি বড় তদন্তের অংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

আপডেট সময় ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন শোষণ নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

এফবিআই জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুদের যৌন শোষণের একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ ছিল। ওই সময় থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে নজরদারি শুরু করে মার্কিন গোয়েন্দারা।

এফবিআইয়ের কুয়ালালামপুর শাখা এবং মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় দেশটিতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে এফবিআইয়ের অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের তত্ত্বাবধানে বিমানযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় আদালতে তাকে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই অপরাধ কেবল আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না; যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিদেশেও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।

জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালে মালয়েশিয়াতেও শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সমন্বয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি এস. লেইন টাকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব—এই ঘটনা তার উদাহরণ।

এফবিআই অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ অ্যান্টনি জাং বলেন, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদের ছবি পাঠাতে বাধ্য করা হতো এবং অস্বীকার করলে সেগুলো ফাঁস করার হুমকি দেওয়া হতো।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি শিশু শোষণ ও মানব পাচারবিরোধী একটি বড় তদন্তের অংশ।