বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় ০৫:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট। তবে এই স্থগিতাদেশের আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা অন্তর্ভুক্ত নয়। শনিবার ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মূলত অভিবাসীদের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলক বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে যাতে তারা আমেরিকান অর্থনীতির ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। এই লক্ষ্য অর্জনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে সব ধরনের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে বেআইনিভাবে কোনো কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য।
২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানের নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় রাশিয়া, মিশর, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, থাইল্যান্ড ও নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু দেশ অন্তর্ভুক্ত। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট মনে করছে এসব দেশের অভিবাসীদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির বর্তমান প্রশাসনের নীতিবিরুদ্ধ।
ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট জানিয়েছে, অভিবাসন নীতিমালার এই পরিবর্তন কেবল নতুন অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বর্তমান স্থগিতাদেশ চলাকালীন দূতাবাসগুলোতে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার ও প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষার্থী ও ভ্রমণ ভিসাধারীরা আগের নিয়মেই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


























