ষড়যন্ত্রকারীদের জনগণই ২৪ এর মতো জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 8
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে। দেশের মানুষ, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ চলছে এবং এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব উদ্যোগ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনো সুযোগ না পায়। এখন দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেবো। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ জবাব দেবো।”
তিনি বলেন, সরকারের সামনে লক্ষ্য একটাই—“করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা দেশের ও মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পাশাপাশি দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের শিল্পকারখানা জনগণ ও শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। এর প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের ওপরও।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বিবেচনা ও সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি, যাতে শ্রমিকেরা আরও ভালো থাকতে পারেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যার সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিন-রাত কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। তবে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।






















