মোংলায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 30
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তার এ সফরে মোংলা বন্দরকে রেলপথে যুক্ত করতে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ২২ অক্টোবর তিনি বন্দরটি পরিদর্শন করেন। তার এবারের সফরকে ঘিরে বন্দর ব্যবহারকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৪৭৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন করবে চীনা পক্ষ।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় এ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ এবং পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।
তবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে দ্রুত এলএনজি স্টেশন নির্মাণ প্রয়োজন।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী চীনা কোম্পানির মাধ্যমে নতুন দুটি কন্টেইনার জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেল যোগাযোগসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
তার মতে, রেল যোগাযোগ চালু হলে মোংলা বন্দর দিয়ে কন্টেইনার পরিবহন সহজ হবে এবং ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ও বিনিয়োগ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রেল যোগাযোগ চালু হলে বন্দরের পণ্য পরিবহন ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হবে।
পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে এবং দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলার গুরুত্ব আরও বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।





















